এ কেমন অমানবিকতা হতদরিদ্র এতিমের উপর

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ | সোমবার, জানুয়ারী ২৯, ২০১৮
এ কেমন অমানবিকতা হতদরিদ্র এতিমের উপর

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামে হতদরিদ্র এক পরিবারের উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৭ জানুয়ারী সকাল ৯ টার সময় হতদরিদ্র পরিবারের গৃহবধূ হালিমা আক্তার সুমির উপর তার চাচী শাশুরি ও চাচাত দেবরেরা এ নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের ফলে হালিমা আক্তার সুমি (৩০) অজ্ঞান হয়ে পরে।

পরে তার স্বামী জসিম ও পাশের বাড়ীর লোকজন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  নেওয়ার পথে তার স্বামীর চাচাত ভাই সাইফুল ইসলাম রানা ও তার ভাই ফালান শেখ জসিমের  উপরও হামলা করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে রানােেদর থামিয়ে তাদের দুজনকে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহত হালিমা আক্তার সুমি উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের জসিমের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত সুমির স্বামী  পেষায় একজন রিক্সা চালক। তাদের বাবা মা অভিভাবক কেউ নেই। রিক্সা চালক জসিম তার স্ত্রী হালিমা আক্তার সুমিকে নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ তার দাদীর ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া বাড়ীতে ঘর তুলে  বসবাস করে আসছে। জসিমের চাচীর বাড়ী তাদের বাড়ীর পাশে হওয়া তার বাচ্চা ও বাড়ীর মুরগি তাদের চাচীর বাড়ীতে যায়। তারই জের ধরে বিভিন্ন সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করত তার চাচী শাশুরি শাহানুর বেগম ও তার চাচাত ভাইয়েরা। জসিম তার চাচীর কথার প্রতিউত্তর করলে তার চাচী ও চাচাত ভাইয়েরা বিভিন্ন সময় তার স্ত্রী ও তাকে মারধর করত।  

আহতের স্বামী জসিম জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ আমি ও আমার বৌ আমার চাচী ও চাচাত ভাইদের কাছে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতিত হয়ে আসছি। ২৭ তারিখ সকালে আমি রিক্সা চালানোর জন্য বের হয়ে ইছাপুরা বাজারে এসে শুনি আমার বৌকে মেরে অজ্ঞান করেছে আমার চাচী ও চাচাত ভাইয়েরা। আমি দৌড়ে বাড়ীতে গিয়ে আমার বৌকে অজ্ঞান অবস্থায় পাই। আশেপাশের লোকজনের সহযোগীতায় আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় আমাকে ও আমার স্ত্রীর উপর আবারো হামলা করে। পরে এলাকার লোকজন এসে তাদের হাত থেকে রক্ষা করে আমাদের দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে। গতকাল আমি সিরাজদিখান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করি। আমি আমার স্ত্রীর উপর নির্যাতনের বিচার চাই।

এব্যাপারে সাইফুল ইসলাম রানার সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টা একেবারেই তুচ্ছ। এরকম কোন ঘটনা ঘটে নাই।

সিরাজদিখান থানার (ওসি) তদন্ত হেলাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।