বসন্ত উৎসবে মেতেছিল বগুড়ার তরুণ-তরুণীরা

| বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০১৮
বসন্ত উৎসবে মেতেছিল বগুড়ার তরুণ-তরুণীরা
সারাদেশের মতো বসন্ত উৎসবে মেতেছিল বগুড়ার মানুষও। বগুড়ার আনাচে কানাচে এই দিবস উপলক্ষ্যে ছিলো সাজসাজ রব। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ছিলো অন্যরকম আমেজ। কলেজ পড়াুয়াদের পাশাপাশি স্কুল পড়–য়াদেরকেও দেখা গেছে আজকের দিনে রঙিন কাপড় আর ফুলে সাজতে। বিশেষ করে বগুড়ার পৌরপার্ক, সরকারি আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যারয় কলেজ, সরকারি মুজিবর রহমান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সরকারি শাহসুলতান কলেজসহ প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলো উৎসবের ব্যপক আমেজ।

তরুণীরা হলুদ রঙিন শাড়ি পরে খোঁপায় গুজেছিলেন রঙিন সব ফুল। মাথার বেনিতেও ছিলো ফুলের চাকতি। তাদের সাজে কমলা-হলদে আভা পড়েছিল প্রকৃতিতে। শহরের হাজারো মানুষের ভিড়ে এসব তরুণীরা ছিলেন মানুষের দৃষ্টিতে কাড়ার মতো। ভালোবাসা প্রেম নিবেদনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি আজ বগুড়ায় পালিত হয়েছে। আর এই দিবস উপলক্ষে বগুড়ার ফুল ব্যবসায়ীরা মোটা অংকের টাকার ফুল বিক্রি করেছেন।     

বসন্ত উৎসবের পাশাপাশি আজ হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এ দিনকে ঘিরেও নানা রকমের প্রস্তুতি নিয়েছে তরুণ তরুণীরা। ফুল ব্যবসায়ীদের ওই দিনেও ভালো বিক্রি হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

বগুড়া শহরের শহীদ খোকন পার্কের পাশে গড়ে উঠেছে ১৭টি ফুলের দোকান। আগে শহরের জিরো পয়েন্টে এখানে ওখানে ফুল বিক্রি হতো। ক্রেতারাও ছিলো বিচ্ছিন্ন। এখন যে কোনো উৎসবে ভিড় জমায় ক্রেতারা ওই ফুলবাজারে। বুধবার ভালোবাসা দিবস। মঙ্গলবারের মতো আজ সকাল থেকেই ফুল কেনার ধুম পড়বে ওই ফুলবাজারে।

সরেজমিনে শহীদ খোকন পার্কের ওই ফুলবাজারে আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতা বিক্রেতাদের সাথে দেখা আর কথা হলো। কামারগাড়ী এলাকার কলেজ ছাত্র আবু সুফিয়ান জানান, ভালোবাসার মানুষকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে তিনি ইতোমধ্যেই পাঁচশত টাকার ফুল কিনেছেন। আজ বসন্ত উৎসবেও তিনি তার মনের মানুষকে ফুল দিয়ে সাজিয়েছিলেন।

ফুলবাজারে কথা হয় কলেজ পড়–য়া সুমাইয়া ইসলামের সাথে। সে জানায়, আজ নিজেকে সাজাতে হাজার টাকার ফুল কিনেছিলো। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের জন্যও সন্ধ্যায় আগ্রিম ফুল কিনেছে সে।

আরেক ফুল ক্রেতা সূত্রাপুরের আফজাল হোসেন জানায়, স্ত্রীর জন্য এই দিনে তিনি ফুল কিনে থাকেন। আজো কিনেছেন। পরপর দুই দিন বিশেষ দুইটি দিবস হওয়ায় তিনি এবার আরো বেশি ফুল কিনেছেন। তার মতে ফুল দিয়েই ভালোবাসার মানুষকে আনন্দ দিতে হয়। তিনি সেটা করেন।

ফুলবাজারের ফুল ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমান বাটু জানান, শহীদ খোকন পার্কের পাশে এখন ১৭টি ফুলের দোকান। এবার ফুলের দাম বেশি। ফুলের তৈরি মুকুট একশত টাকা, রজনী গন্ধা স্টিক পনের টাকা, ঝারবেড়া বিশ টাকা, গর্ডেয়া পনের টাকা, গোলাপ পনের টাকা। তবে আজ সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সতের হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেছেন তিনি। রাতে আরো বিক্রির আশা করছেন।

আরো দুইজন ফুল ব্যবসায়ী লক্ষণ ও রেজাউল করিম রাজু একই কথা বলেছেন। তারা বলছেন, বিভিন্ন উৎসবে ফুল বিক্রি করে সংসার ভালোভাবেই চলছে এখন আমাদের। আগে শুধু যশোর থেকে ফুল নিয়ে আসলেও এখন ফুল চাষে লাভজনক দেখে স্থানীয়ভাবে অনেকেই ফুল চাষ করছে। তাদের কাছ থেকেও ফুল কিনছি আমরা।

বগুড়ার ধুনটের মবুয়াখালি গ্রামের ফুল চাষি লেমন তালুকদার জানান, আগে অন্যান্য ফসলের চাষ করলেও এখন প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করছি। বগুড়ায় এই সব ফুল সরবরাহ করছি। লাভও বেশি হচ্ছে।

এছাড়াও বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা, মহাস্থান, শিবগঞ্জ এলাকায় এখন বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে। এজন্য এখানকার ফুল ব্যবসায়ীদের শুধু যশোরের ফুল চাসিদের উপর নির্ভর করতে হয় না।

এখানকার ব্যবসায়ীরাদের ভাষ্যমতে, দিনি দিন বগুড়ায় ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে বিশেষ দিবস ছাড়া তেমন ফুল বিক্রি হতো না। এখন নিয়মিত বগুড়া শহরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়। এসব অনুষ্ঠানের জন্য প্রচুর ফুল লাগে। তাছাড়া প্রতিনিয়তই বিয়ে, জন্মদিনসহ নানা অনুষ্ঠানে মানুষ ফুল কিনে থাকে। ফলে দিনদিন এখানে ফুলের চাহিদা বাড়ছে। কৃষকরাও ভালো দাম পাওয়ায় অন্যান্য আবাদের পাশাপাশি ফুলচাষের দিকে ঝুঁকছে।