গাছে গাছে মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা

হারুন উর-রশিদ ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)থেকে | রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০১৮
গাছে গাছে মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা
ছয় ঋতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ পাতাঝড়া ষড়ঋতুর রাজা বসন্ত। আবহমান বাংলার সৌন্দর্যের রাজা বলে পরিচিত গ্রীষ্মকাল। ফাগুনের ছোঁয়ায় পলাশ-শিমুলের বনে লেগেছে আগুন রাঙা ফুলের মেলা। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই সুমধুর কুহুডাকে মাতাল করতে আবারও ফিরে এলো মাতাল করতে ঋতুরাজ বসন্ত। রঙিন-বন,গাছে গাছে নতুন কুড়ি গজিয়েছে ফুলের সমারোহে প্রকৃতি যেমন সেজেছে বর্ণিল সাজে, তেমনি নতুন সাজে যেন সেজেছে আম গাছ গুলো। আমের মুকুলে ভরপুর আর ঘ্রাণে সবত্র জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা।

শোভা ছড়াচ্ছে নিজস্ব মহিমায়। মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে বাগানগুলো প্রায় ৬০ শতাংশ গাছেই এসেছে মুকুল। ফুলবাড়ী উপজেলার বাগান মালিক ও আমচাষিরা আশা করছেন বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন আশা করছে। আমচাষি ও বাগান মালিকরা বাগানে পরিচর্চা নিয়ে এখন ব্যাস্ত সময় পার করছেন। অবশ্য গাছে মুকুল আশার আগে থেকেই গাছের পরিচর্চা করে আসছেন তারা। যাতে করে গাছে মুকুল বা গুটি বাঁধার সময় কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয়। সারিবদ্ধ গাছে ভরপুর আমের মুকুল যেন শোভা ছড়াচ্ছে তার নিজস্ব মহিমায়। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় হাড়ীভাঙ্গা,ফজলি, খিড়সাপাতি, অ¤্রপালী, মোহনা, রাজভোগ, রূপালী, গোপালভোগসহ অন্যান্য জাতের আম চাষের উপযুক্ত হওয়ায় চাষীরা নিজ উদ্যোগে প্রথমে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে আমের বাগান সৃজন করলেও বর্তমানে অনেকেই নিজেরাই চারা উৎপাদন করে তাদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সুফলও পেয়েছেন অনেকেই। আম চাষে সফল কৃষক শিবনগর গ্রামের সুমন জানান, পুরাপুরিভাবে এখনো সব গাছে মুকুল আসেনি। কয়েকদিনের মধ্যেই সকল গাছেই মুকুল আসবে। আমি এ আম থেকে অনেক টাকা আয় করেছি। তার মতো শিবনগর গ্রামের অনেকেই আমের বাগান তৈরি করেছেন। তারা জানান, ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ কম থাকায় এবার কাঙ্খিত ফলনের আশা করছেন। সুবিধাভোগীদের সুফল দেখে চাষিরা আম চাষে উৎসাহিত হয়ে নিজ নিজ উদ্যোগে নতুন নতুন বাগান সৃজন করছেন। ধীরে ধীরে এ উপজেলা জুড়ে সস্প্রসারিত হচ্ছে আমের বাগান। উৎপাদিত আম মানসম্মত হওয়ায় চাহিদাও বেড়েছে অনেক। এলাকার আম বিভিন্ন কোম্পানিসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার এটিএম হামিম আশরাফ জানান, ফুলবাড়ী উপজেলার বিরাজমান আবহাওয়া ও মাটি আম চাষের জন্য উপযোগী। মাঠ পর্যায়ের বাগান ও বসতবাড়ীর চতুরপাশ ছাড়াও দন্ডায়মান আম গাছে মুকুল থেকে শুর করে শেষ পর্যন্ত গাছের আম যাতে কোন কারণে বিনষ্ট না হয় সে জন্য সার্বক্ষনিক সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে এবং কৃষকদের বহুমূখী পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেক বেশি আমের উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা করেন।