গলাচিপায় ককটেল ও পিস্তল সহ ২ ডাকাত আটক, আহত ৮

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) | রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০১৮
গলাচিপায় ককটেল ও পিস্তল সহ ২ ডাকাত আটক, আহত ৮

পটুয়াখালীর গলাচিপায় স্বর্নের দোকানে ডাকাতির সময় ১৫টি তাজা ককটেল, ৬ রাউন্ড গুলি সহ ১টি পিস্তল, ১টি মটরসাইকেল সহ ডাকাত দলের ২ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ ও জনতা, বাকীরা পালিয়েছে। গ্রেফতারকৃত ডাকাত সদস্যরা হল বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার কৃষ্ণ নগর গ্রামের চাঁনমিয়ার ছেলে কিবরিয়া (৪৫) ও মোবারক আলী হাওলাদারের ছেলে কামরুল ইসলাম কালাম (৩৫)।

ওই রাতেই ডাকাত দুইজনকে চিকিৎসার জন্য পুলিশ পাহারায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। শনিবার রাত সাড়ে সাত টার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্বর্নকার পট্টিতে এ ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাতের ছুরির আঘাতে গুরুত্বর আহত হয়েছে মা স্বর্ণ শিল্পালয়ের প্রোপ্রাইটর নির্মল কর্মকার। ঘটনা ঘটার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ স্বর্ণকার পট্টি ঘিরে ফেললে ডাকাতরা পালিয়ে  যাওয়ার সময় দুই সদস্যকে আটক করে জনতা। আটককৃত ডাকাতরা জনরোষে পড়লে দ্রুত থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ডাকাতি হওয়া মালামাল ও ডাকাতি সংঘটিত করার জন্য ব্যবহারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও ককটেল উদ্ধার করে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে জানাগেছে, শনিবার সন্ধ্যায় মা স্বর্ন শিল্পালয়ে ডাকাতির চেষ্টা চালায় ডাকাতরা। এসময় ডাকাতের ছুরির আঘাতে মা স্বর্ন শিল্পালয়ের প্রোপ্রাইটর নির্মল কর্মকার আহত হয়। এসময় ডাকাতদের ধরতে গেলে উজ্জল বনিক, চন্দন বনিক, মতি কর্মকার, কমল কর্মকার, সুমন কর্মকার, সজল কর্মকার ও শুভ কর্মকার আহত হয়। এদের মধ্যে সজল কর্মকারের মুখমন্ডলে এসিড লেগে আহত হয়। বাকিরা ককটেল বিষ্ফোরণে আহত হয়। তাদেরকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। কি পরিমাণ স্বর্ণ বা টাকা নিয়ে গেছে। তা এ পর্যন্ত পুলিশ বা দায়িত্বশীল কোন সংস্থার কাছ থেকে কোন তথ্য জানাজায়নি।

কিন্তুু বর্তমানে পুলিশের অভিযান চলছে। এ বিষয়ে মা স্বর্ণ শিল্পালয়ের প্রোপ্রাইটর নির্মল কর্মকার বলেন, ডাকাতরা আমার দোকান থেকে আনুমানিক ৩০-৩৫ ভরি স্বর্ণ ও আমার সিন্ধুকে থাকা নগদ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এ সময়ে আমি বাধা দিতে গেলে ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার পিঠের পিছন দিকে কাঁধের উপরে কোপ দেয়।  পরে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। কত্যর্বরত ডাক্তার মো. ইমাম হোসেন বলেন, গুরুত্বর আহত নির্মল কর্মকারের ছিনায় তিনটি সেলাই লেগেছে। বাকী আহতদের চিকিৎসা চলছে। এ ব্যাপারে গলাচিপা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ডাকাতরা আনুমানিক ৬/৭ জন ছিল। এরা পেশাদারী ডাকাত। অন্য ডাকাতদের ধরার জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয় নি।