পদ্মা-মেঘনায় আজ থেকে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

চাঁদপুর প্রতিনিধি, | বৃহস্পতিবার, মার্চ ১, ২০১৮
পদ্মা-মেঘনায় আজ থেকে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
মার্চ-এপ্রিল দুই মাস পদ্মা-মেঘনায় মাছের অভয়াশ্রম। এ দুই মাস নদীতে জাল ফেলা যাবে না। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এ অভয়াশ্রম কর্মসূচি।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে শুরু করে লক্ষ্মীপুর জেলার চরআলেকজেন্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকা হিসেবে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এ সময় ইলিশসহ যেকোনো মাছ আহরণ, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন করা যাবে না।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলায় ৫১ হাজার ১৯০ জন তালিকাভুক্ত জেলে রয়েছে। এসব জেলেকে এই দুই মাস বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে সেলাইমেশিন, গবাদি পশু অন্যন্যা সামগ্রী দেয়া হবে।

এছাড়াও ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত চার মাস প্রত্যেক জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হবে, যাতে করে জেলেরা জাটকা নিধন না করেন।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকি বলেন, জাটকা রক্ষার দুই মাসের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা শুরু হয়েছে। আমরা জেলে, জেলে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিসহ সব কমিউনিটির লোকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। নদী উপকূলীয় এলাকায় জাটকা নিধন না করার জন্য মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও ব্যানার সাঁটানো হয়েছে। দুই মাস নদীতে জেলা টাস্কফোর্স নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবে। এরপরও কোনো জেলে আইন অমান্য করে মাছ ধরলে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

চাঁদপুর অঞ্চলের নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার বলেন, আমরা জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, কোস্টগার্ড ও জেলে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা ও সমন্বয় করেছি। আইন অমান্য করে জাটকা আহরণ করলে আটক করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। নৌ-এলাকার সকল থানা ও ইউনিটের পুলিশ নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মণ্ডল বলেছেন, ইলিশ দিয়েই চাঁদপুর জেলা ব্র্যান্ডিং হয়েছে। তাই এই ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব চাঁদপুরের সিকি কোটি মানুষের। আমরা সব শ্রেণি পেশার লোকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করেছি। জাটকা নিধনের সঙ্গে জড়িত কাউকেই কোনোভাবে ছাড় দেয়া হবে না। আমরা চাঁদপুরের বিগত দিনের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে চাই। সবার সহযোগিতা থাকলে অবশ্যই দুই মাসের এ কর্মসূচি সফল হবে।