মাদারীপুরে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর

মাদারীপুর প্রতিনিধি মাদারীপুর প্রতিনিধি | শনিবার, মার্চ ৩, ২০১৮
মাদারীপুরে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর
মাদারীপুর সদর উপজেলার ২নং শকুনী-হাজির হাওলা এলাকায় শুক্রবার রাতে ক্রিকেট খেলা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের   ঘটনা   ঘটেছে।   এসময়   আওয়ামী লীগের   একটি  শাখা   অফিসে   হামলা চালিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খানের ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলা চালানো হয়েছে এলাকায় কয়েকটি বসতঘরে। এই ঘটনায় দুই নারী আহত হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ২নং শকুনী-হাজির হাওলা এলাকায়   শুক্রবার   বিকালে   ক্রিকেট   খেলাকে   কেন্দ্র   করে   জেলা  আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আহম্মেদ ও জাকির গ্রুপের সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের অপর গ্রপ দেলোয়ার মুন্সী-কালাম দারোগার সমর্থকদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে ইলিয়াস-জাকির গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দেলোয়ার মুন্সীর সমর্থকদের বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।

শনিবার সকালে পুনরায় ইলিয়াস-জাকির  গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাজির হাওলা এলাকার মিজু জমাদ্দার, মোশারফ জমাদ্দার, মুজিবর জমাদ্দার, বাচ্চু জমাদ্দার, আতিকুর জমাদ্দার, নূর জমাদ্দার, হালান দারোগা, জয়নাল দারোগা, মেহব্বত আলী দারোগার বসতঘরসহ ১০/১২টি দোকান ভাঙচুর করে।

এ সময় রাশিদা বেগম (৩৫) ও নাজমা বেগম   (২৭)   আহত   হন।  তারা মাদারীপুর  সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আহম্মেদ বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর হয়েছে। আমি এ

মারামারির সঙ্গে সরাসরি জড়িত নেই। একটি পক্ষ আমাকে ব্যবহার করছে। তবে কোনো লোক আওয়ামী লীগ  অফিসে হামলা  চালায়নি এবং বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করেনি। অপর পক্ষ রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার জন্য নিজেরা ভেঙে  আমাদের নামে বদনাম ছড়াচ্ছে।

এই নেতা বলেন  আমি ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। বঙ্গবন্ধু ওপ্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙার প্রশ্নই আসে না।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র   করে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। আওয়ামী লীগ অফিসসহ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর হয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কোনো পক্ষ এখন পর্যন্ত মামলা করতে আসেনি। মামলা হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।