জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত

সিলেট ব্যুরো | শনিবার, মার্চ ৩, ২০১৮
জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত করেছে এক যুবক। তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তার ক্ষতস্থান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

শনিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তবে তার পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স প্রকৌশল বিভাগের বিভাগের ফেস্টিভেল চলছিল। একপর্যায়ে তিনি অনুষ্ঠানস্থলের এক স্থানে দাঁড়িয়েছিলেন। তাকে ঘিরে ছিল পুলিশ। এর মধ্যেই এক  যুবক পেছন থেকে এসে জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত করেন।

প্রিয় স্যারকে রক্তাক্ত জখম হতে দেখে শিক্ষার্থীরা ছুটে এসে তাকে ঘিরে ধরে। আর কিছু শিক্ষার্থী হামলাকারী যুবককে আটক করে গণধোলাই দেয়।

এক শিক্ষার্থী জানান, হাসপাতালে নেয়ার সময় ড. জাফর ইকবাল তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা হইচই করো না। আমি নিজেকে কন্ট্রোল করছি।  আমাকে ধরো। আমার রক্তের গ্রুপ এ পজিটিভ।

ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার খবরে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ওসমানী মেডিকেলে ছুটে আসছে।

হাসপাতালে অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জাফর ইকবালের ওপর হুমকি আগেই ছিল ২০১৬ সালের এপ্রিলে পুলিশ সদর দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাফর ইকবালকে সশস্ত্র পুলিশি নিরাপত্তা দেয়া হয়। তখন দিনের বেলায় দুজন এবং রাতে তিনজন সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৬ সালের ১২ অক্টোবর জাফর ইকবালের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বার্তা আসে। সেই  বার্তায় লেখা ছিল ‘Hi Unbeliever! We will strangulate you soon’।  তিনি লেখক হিসেবে বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। আমেরিকাতে পড়ার সময় তিনি তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ইয়াসমিন হকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ড. ইয়াসমিন হক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। ১৯৯৪ সালে তিনি দেশের টানে আমেরিকা ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন। উগ্রবাদী ও জামায়াত-শিবির চক্র সামাজিক মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে আসছে।


তার বৈশিষ্ট্যসূচক সহজ ভাষায় লেখা কলামগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক কালের কন্ঠসহ একাধিক পত্রিকায় সাদাসিধে কথা নামে নিয়মিত কলাম লিখে থাকেন। তাঁর লেখা কলামগুলোতে তাঁর রাজনৈতিক সচেতনা এবং দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর স্বাধীনতা-বিরোধী ও ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি মত প্রকাশ এবং প্রগতিশীল চিন্তাধারার ধারক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সাহিত্য ও সংস্কৃতিসেবী ছাত্র সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে অবস্থান বিভিন্ন সময় প্রতিক্রিয়াশীলদের রোষানলে পড়েছে।

ড. জাফর ইকবাল নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই। বর্তমানে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি নিয়মিত বিজ্ঞান-কল্পকাহিনী লিখে যাচ্ছেন, প্রতি বইমেলাতে তার নতুন সায়েন্স ফিকশান কেনার জন্যে পাঠকেরা ভিড় জমায়।

তিনি কিশোর উপন্যাসের লেখক হিসেবেও অত্যন্ত সফল। এই শাখাতেই তার প্রতিভা সর্বোচ্চ শিখর ছুঁয়েছে। তার লেখা অনেকগুলো কিশোর উপন্যাস বাংলা কিশোর-সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তার একাধিক কিশোর উপন্যাস থেকে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড গড়ে তোলার পেছনে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে। গণিত শিক্ষার ওপর তিনি ও অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বেশ কয়েকটি বই রচনা করেছেন। এর মাঝে "নিউরনে অনুরণন" ও "নিউরনে আবারো অনুরণন" বই দুটি গণিতে আগ্রহীদের কাছে খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।