যাদুকাটার তীরে শাহ আরেফিনের ভক্তদের মিলনমেলা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, | সোমবার, মার্চ ১২, ২০১৮
যাদুকাটার তীরে শাহ আরেফিনের ভক্তদের মিলনমেলা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত নদী যাদুকাটার তীরে বুধবার শুরু হচ্ছে হজরত শাহ আরোফিন (রহ.)- এর ওরস মোবারক।

এই মহাসাধকের ভক্তদের মিলনমেলাকে কেন্দ্র করে সিলেট বিভাগের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জসহ চার জেলা এবং উপজেলাগুলোতে গত এক সপ্তাহ ধরেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

প্রতি বছরের মতো ইতোমধ্যে দেশের সমগ্র অঞ্চল থেকে হাজার হাজার কাফেলাধারী পাগল ফকির, ভক্ত, সাধক ও দর্শনার্থীরা ওরসে যোগ দিতে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো ও আখড়াবাড়ির আশ পাশের গ্রামে আসতে শুরু করেছেন।

বুধবার বাদ আসর হজরত শাহ আরোফিন (রহ)-এর জীবন দর্শনের ওপর আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী ওরসের আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। শেষ হবে ১৭ মার্চ আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে।

কথিত আছে, তিনি ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের বড়বড় পাথরের গুহায় বসে আল্লাহর ইবাদত করতেন। ওইটাই ছিল তার একমাত্র আস্তানা, বাংলাদেশে কোন আস্তানা নেই। কিন্তু ভারতের সেই আস্তানায় ভক্তদের যেতে দেয় না ভারতীয় বিএসএফ। তাই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের লাউড়েরগড় এলাকায় জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন স্থানে শাহ আরোফিন (রহ.)- এর আস্তানা তৈরি করে সেখানেই ওরস পালন করা হয়।

পূন্যার্থী ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য যাদুকাটা নদীর চারপাশ। শাহ আরোফিন (রহ.)-এর ওরসে যাদুকাটা নদীর দুই তীর রাজারগাঁও ও লাউড়েরগড়ে বসে বিরাট বারুনী মেলা। তাহিরপুর থানার অফিসার্স ইনচার্য নন্দন কান্তি ধর জানান, অন্যায়কারীকে ছাড় দেয়া হবে না। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামন কামরুল জানান, নিরাপত্তার জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মেলায় কোন অন্যায় কেউ করলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূনেন্দ্র দেব বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মেলা উন্মুক্তো রাখা হয়েছে। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে কেউ কোন প্রকার চাঁদা উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি, এনএসআই, ডিএসবি, ডিবি, সাদা পোশাকধারী পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যদের বিশেষ নজরদারি থাকবে।