যাদুকাটা তীরে মুসলমান ও হিন্দু ভক্তদের মিলনমেলা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৫, ২০১৮

যাদুকাটা তীরে মুসলমান ও হিন্দু ভক্তদের মিলনমেলা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমারন্তবর্তী ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের সীমান্তঘেষা যাদুকাটা নদীর তীরে তিন দিনব্যাপী দুই আধ্যাত্মিক মহাসাধকের লাখো লাখো ভক্তের মিলনমেলা বুধবার থেকে শুরু হয়েছে।

বৃহত্তর সিলেট বিভাগের মধ্যে সুদূর ৭৫০ বছর পূর্ব কাল থেকে সপ্তগঙ্গার মিলনকেন্দ্র সব তীর্থের এক তীর্থ যাদুকাটা নদীর তীরে পণতীর্থ ও হজরত শাহ আরেফিন (রহ.)’র আস্তানা লাউড়েরগড়ে সবচেয়ে বড় উৎসব ও ওরস মোবারক হয়ে আসছে। এ ওরস ও স্নানযাত্রায় যোগ দিতে দুই ধর্মের ভক্ত ও আশেকানরা রাজধানী ঢাকা, দেশ ও দেশের বাইরে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়ার বিভিন্ন ও সিলেট বিভাগের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জসহ চার জেলা উপজেলা এবং দেশের সমগ্র অঞ্চল থেকে হাজার হাজার কাফেলাধারী পাগল ফকির, ভক্ত, সাধক ও দর্শনার্থীরা ওরস এবং স্নানযাত্রা মহোৎসবে যোগ দিতে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো ও আখড়াবাড়ীর আশেপাশের গ্রামে এসে মিলিত হয়েছেন।

জানা যায়, সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)’র ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সঙ্গী হজরত শাহ আরেফিন (রহ.) তাহিরপুরের লাউড়েরগড় সীমান্তের আস্তানায় প্রতি বছরের ন্যায় ১ চৈত্র ১৪২৪ বাংলা, ১৫ মার্চ ২০১৮ বাদ আছর ওলি আউলিয়াদের জীবন দর্শনের উপর আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে বার্ষিক চার দিনব্যাপী ওরস মোবারক আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। ওরস চলবে ১, ২ ও ৩ চৈত্র-১৫, ১৬ ও ১৭ মার্চ শনিবার ফজর আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

অপরদিকে প্রাচীন লাউড় রাজ্যের হাবেলীর দেওয়ান রাজা ওরফে বিজয় সিংহের রাজ দরবারের পুরোহিত শ্রী অদ্বৈত্য আচার্য মহাপ্রভুর নবগ্রাম খ্যাত রাজাগাঁওস্থ আঁখড়া বাড়ির সংলগ্ন সীমান্তনদী ২৩ কিঃমিঃ দৈর্ঘ জাদুকাটা নদীতে পণতীর্থের তীরে ৩০ ফাল্গুন-১৪ মার্চ বুধবার থেকে গঙ্গাস্নান উপলক্ষে ৩ দিনব্যাপী মহাবারুণী মেলাও শুরু হয়েছে। বারুণী মেলা চলবে ৩০ ফাল্গুন, ১ ও ২ চৈত্র-১৪, ১৫ মার্চ এবং ১৬ মার্চ ভোর বেলা শুক্রবার আরতির মাধ্যমে বারুণী মেলার সমাপ্ত হবে।