বাহরাইনে বেশির ভাগ প্রবাসী সমস্যায় জর্জরিত

বাহরাইন থেকে | বৃহস্পতিবার, মার্চ ২২, ২০১৮

বাহরাইনে বেশির ভাগ প্রবাসী সমস্যায় জর্জরিত
উচ্চশিক্ষিত, অল্পশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, স্বশিক্ষিত এমনকি অশিক্ষিত লোকেরাও দেশে কর্মসংস্থানের অভাবে পাড়ি জমিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে। তাদের প্রায় সবাই নিজের বেকারত্ব ঘুচাতে ধারদেনা করে পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে বাহরাইনে এসেছেন। তবে কেউ আবার স্বপ্নের ঘোরে আরাম আয়েশে জীবন যাপনের উদ্দেশ্যে, কেউবা অবৈধ টাকা লুকাতে এসেছেন। কেউবা এসেছেন জীবনের নিরাপত্তার অভাবে আর কেউবা হামলা ও মামলার ভয়ে বাহরাইন এসেছেন।

বর্তমানে বাহরাইনে বৈধ আর অবৈধ প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় চার  লাখ। বাহরাইনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। হাজারো সমস্যার পরও অনেকেই উপায়-অন্তহীনভাবেই অবস্থান করছেন বাহরাইনে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, বাহরাইনে বাংলাদেশের এই বিশাল প্রবাসী জনসংখ্যার জন্য দায়িত্বশীল যোগ্য কোনো অভিভাবক না থাকায় তাদের অন্তহীন সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। অধিক মানসিক চাপের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক প্রবাসী মৃত্যুবরণ করেছেন। তেমন কোনো শক্তিশালী কমিনিউটি না থাকার কারণে এখানে যেসব কমিনিউটির নেতারা আছেন তারাও প্রত্যেকে নিজেদের মধ্য অন্তঃদ্বন্দ্বে লিপ্ত।

অনেক প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছু দালালের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই আজ বাহরাইনে মানবতার জীবন যাপন করছে।

সিলেটের মো. আবদুল আহাদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি চার লাখ ৭৫ হাজার টাকা দালালের হাতে দিয়ে বাহরাইন আসি। আসার ২৮ দিনের মাথায় আমার ভিসা বাতিল হয়ে যায়, অবৈধ হয়ে পড়ি।

কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার কাওছার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘দীন ইসলাম নামের এক দালালকে চার লাখ টাকা দিয়ে আমি বাহরাইন আসি। আসার ছয় মাস পর জানতে পারি আমার ভিসা বাতিল হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এধরনের অবৈধ হওয়া শ্রমিকের সংখ্যা এরই মধ্যে প্রায় দুই লাখ ছাড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূত কে এম মমিনুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘শ্রমিকদের সব অভিযোগ আমরা একটি ডাটাবেজে লিপিবদ্ধ করে রাখছি। কে কার মাধ্যমে কীভাবে বাহরাইন এসেছে ইত্যাদি তথ্য মোবাইল নম্বরসহ অভিযোগে লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে কোনো বড় প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেলে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

এছাড়া রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও বাহরাইন সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যারা এর জন্যে দায়ী তাদের আইনের আওতায় আনার ব্যাপারেও আশ্বাস দেন।