ফেনী বিএনপি: ‘দুঃসময়ে’ উধাও ‘সুসময়ের’ নেতারা

ফেনী প্রতিনিধি | শুক্রবার, মার্চ ৩০, ২০১৮
ফেনী বিএনপি: ‘দুঃসময়ে’ উধাও ‘সুসময়ের’ নেতারা
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় কারাগারে থাকা অবস্থায় তার নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফেনীতে দাঁড়াতেই পারছে না বিএনপি নেতাকর্মীরা। দলের দু:সময়ে সুবিধাভোগী পদধারী সেইসব নেতাদের দেখাও পাচ্ছে না কর্মীরা। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্ধ ও হতাশ।

ফেনী বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের ফেনীতে কোনো মিছিল-সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপি। দুই একটি মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বেশিরভাগই এখন পালন হয় না।

রাজনীতিতে আগের মত সরব নেই বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন (ভিপি জয়নাল)। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ হারানোর পর থেকে তিনি জেলার রাজনীতির মাঠ থেকে কিছুটা দূরে।

জাসদ থেকে দলবদল করে বিএনপির টিকিটে সদর আসন থেকে দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জয়নাল। ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুর পর বড় একটি ধারা তার নেতৃত্বে রয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে অনুসারীদের নিয়ে নিজের পক্ষ থেকে শহীদ মিনার বা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রীতিমত।

এবার জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেয়ার সময় উপস্থিত থাকলেও লোকসমাগম তেমন হয়নি। তবে তার সমর্থক হিসেবে পরিচিত যুবদল-ছাত্রদলের একটি অংশ সক্রিয় রয়েছে।

জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন আহমেদ মিষ্টার কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিতে মাঠে নামতে চাইলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন।

বিভিন্ন সময় কর্মসূচিতে মাঠে নামেন সহ-সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সম্পাদক এম এ খালেক, মনোয়ার হোসেন দুলাল ও ফজলুর রহমান বকুল, দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পৌর সভাপতি আলাল উদ্দিন আলাল।

ফেনী বিএনপির অন্যতম কাণ্ডারী কেন্দ্রীয় সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও জেলা যুগ্ম-সম্পাদক রেহানা আক্তার রানু রাজধানীতে অবস্থান করছেন। তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন খান, জেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী ও ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন মামুন দুই একটি কর্মসূচি পালন করেন।

যুবদল সভাপতি গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক ২০১৭ সালে দলীয় কর্মসূচি থেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তার অনুসারী হিসেবে জেলা ছাত্রদল সভাপতি নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাতের নেতৃত্বে গাজী মানিক সমর্থকরা সরব রয়েছেন।

দলের একাধিক সূত্র জানায়, জেলা বিএনপির ১৫১ সদস্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকলেও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় কোন্দলে নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। দলীয় কর্মসূচীতে নেতারা নিষ্ক্রিয় থাকায় কর্মীরাও মাঠে নামেন না।

দীর্ঘদিন দলীয় কার্যক্রম বা আন্দোলন-সংগ্রামে জেলা সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, হাবিবুর রহমান নান্টু, সফিকুর রহমান রফিক, বেলাল মিল্লাত, কামাল উদ্দিন, ইকবাল চৌধুরী, শাহজাহান মজুমদার অনুপস্থিত।

অন্যদের মধ্যে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম তকি কাঁলাচান, রিয়াজুল হক তুহিন, নুরুল আমিন ভূঁইয়া বাদশা, কোষাধ্যক্ষ সাদেক হোসেন পাটোয়ারি, তথ্য ও বিজ্ঞান সম্পাদক আতাউল হক অশ্রু, বন ও পরিবেশ সম্পাদক আমির হোসেন মোজাম্মেল, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবুল খায়ের লিংকন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সালমা জাহিদকে পাচ্ছেন না কর্মীরা।

পৌর সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন মিলন দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। অন্যদের মধ্যে জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা আহমদ কেটু ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান মাসুদের দেখা নেই অনেকদিন।

এক সময় বিএনপির কমিটি গঠনে যুবদলের প্রভাব থাকলেও সেই ঢাউস কমিটির নেতারা এখন অধরা। এদের মধ্যে সদর উপজেলা যুবদল আহবায়ক আতিকুর রহমান মামুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন মানিক, শাহাদাত হোসেন, কামাল মজুমদার, নিজাম উদ্দিন লাপাত্তা।

অপর দুই যুগ্ম-আহবায়ক কামরুল হাসান ও তারেক ইকবাল মনি গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন।

জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন আহমেদ মিষ্টার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মামলা-হামলায় জর্জরিত হয়ে অনেক নেতাকর্মী ঘর-বাড়ি ছাড়া। এছাড়া প্রশাসন বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঠে নামতে দিচ্ছে না। তবুও দীর্ঘদিন দলীয় কর্মসূচীতে অনুপস্থিত এমন পদ-পদবিধারী নেতাদের প্রতি নজর রাখা হচ্ছে।’