বাবুলের অত্যাচারের শিকার কেবল বিউটি নন

পাবেল খান চৌধুরী, হবিগঞ্জ | রবিবার, এপ্রিল ১, ২০১৮
বাবুলের অত্যাচারের শিকার কেবল বিউটি নন
হবিগঞ্জে কিশোরী বিউটিকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া তার এলাকায় বেপরোয়া স্বাভাবের কারণে সমালোচিত। তার কারণে এলাকায় কিশোরীরা নিত্য হয়রানি ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে বলে এখন জানা যাচ্ছে।

বিউটিকে খুন করে সবুজ মাঠে ফেলে রাখার ছবি প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় হয়। জানা যায় এর পেছনে রয়েছেন বাবুল। মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠার পর বাবুলের বিচারের দাবিতে জোরাল দাবি উঠে।

বেশ কিছুদিন লুকিয়ে থাকার পর শনিবার বাবুলকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আর তার আত্মগোপনে যাওয়ার পর থেকেই তার এবং তার পরিবারের অতীতের নানা ঘটনা সামনে চলে আসছে।

স্থানীয়রা জানান, বিউটির আগেও বহু মেয়েকে হয়রানি করেছেন বাবুল। রাস্তাঘাটে নারীদের উত্ত্যক্ত করা, সখ্য গড়ে প্রতারণা ও অনৈতিক কাজের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিউটির বাবা সায়েদ আলী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বাবুলের কারণে শুধু আমার মেয়েই নয়, এলাকার অনেক মেয়েই লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।’

‘বাবুল এলাকার উঠতি বয়সের তরুণী ও কিশোরীদের রাস্তায় পেলেই বাজে ভাষায় উত্ত্যক্ত করত। কখনও কখনও গায়ে হাতও দিত। তবে এলাকায় সে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে লোকজন কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।’

ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের বাসিন্দা নাজির মিয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘নারীদেরকে সে মোটেও সম্মান করে না। তার আচরণে এলাকার সবাই অতিষ্ঠ।’

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের মৃত মলাই মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়ার বয়স ৩০। তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক।

২০১০ সালে একই গ্রামের এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে বিয়ে করেন বাবুল। এরপরও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে তাদেরকে জিম্মি করে নানা ধরনের অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে বাবুলের বিরুদ্ধে।

বাবুল প্রাথমিক পাসের পর আর পড়ালেখা করেননি। কয়েক বছর আগে অলিপুরে প্রাণ কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ নেন তিনি।

প্রায় এক যুগ আগে বাবুলের বাবা মলাই মিয়া মারা যান। স্থানীয়রা জানান, লাখাইয়ে ডাকাতিকালে গণপিটুনিতে নিহত হন বাবুলের বাবা মলাই। পরে তার মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়।

তার মা কলমচান বিবি চলতি বছরে ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।