কালীনদীতে কচুরিপানার বাঁধায় সাধারণ অসহায় ও ব্যবসায়ীদের চোখে ‘পানি’!

মোঃ নাঈমুজ্জামান নাঈম, প্রতিনিধি | রবিবার, এপ্রিল ১, ২০১৮
কালীনদীতে কচুরিপানার বাঁধায় সাধারণ অসহায় ও ব্যবসায়ীদের চোখে ‘পানি’!

ভাটির সিংহদ্বার নামে খ্যাত কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার পৌরশহরের পাশদিয়ে বয়ে গেছে কালীনদী। এই নদী দিয়ে ভাটি অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে নৌ-যান।  কুলিয়ারচর বাজার লঞ্চঘাট থেকে ভৈরব উপজেলার মানিকদী নৌকাঘাট সহ ভাটি অঞ্চলের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কচুরিপানার জট লেগে আছে। এতে নৌ-যান চলাচল ব্যহত হচ্ছে। বাজারের অন্যতম  প্রধান ব্যবসা মাছ, বাঁশ, শুটকি, ইট-বালি, কাঁচামাল সহ যাবতীয় পণ্যসামগ্রী  ক্রেতা ও বিক্রেতা সহ ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,প্রতিবছর চৈত্র-জ্যৈষ্ঠ এই তিন মাস  কুলিয়ারচর ও ভৈরব উপজেলার এলাকার প্রধান দুটি ঘাট কুলিয়ারচর বাজার লঞ্চঘাট এবং মানিকদী নৌকাঘাট সহ সাদেকপুর, রসুলপুর, মেন্দিপুর, রাজাপুর, দিলালপুর, হুমায়ুনপুর, বাঙ্গালপাড়া, অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইনের লঞ্চঘাট নৌকা ঘাট ও স্পীডবুট এলাকায় কচুরিপানা জমাট বেঁধে আছে। এতে নৌযান চলাচলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। মানিকদী নৌকাঘাট মাঝি বলেন, কইচ্চা ঠেইল্লা গাং পাড় হইতে কষ্ট লাগে । পাঁচ মিনিটের জায়গায় লাগে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট। এতে ইঞ্জিনের তেল বেশী খরচ হয়। লঞ্চ চালক বলেন,নদীতে কচুরিপানার জটের কারণে লঞ্চ চালাতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

তাছাড়া প্রায় সময় ইঞ্জিনের পাখা ভেঙ্গে পরে।  এতে সময় নষ্ট  সহ তেল বেশী খরচ হয়। স্পীডবুট চালক মাঈন উদ্দীন বলেন,কচুরিপানার জটে আমাদের স্পীডবুট চালানো অসম্ভব তাই কচুরিপানার বাঁধায় স্পীডবুট চালানো বন্ধ রয়েছে।

কচুরিপানা পরিস্কার না হওয়া পর্যন্ত স্পীডবুট চলাচল বন্ধ থাকিবে। কুলিয়ারচর বাজার মৎস্য আড়ৎ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্পন কুমার দাস বলেন,সময় মতো নৌযান ঘাটে না আসায়  বাজারের ঐতিহ্যবাহী মৎস্য  আড়ৎ  ও নদীর তীরবর্তী স্থানে অবস্থিত প্রায় ১৫০টিরও বেশী শুটকির ডিঙি ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কুলিয়ারচর বাজারের পুরাতন বিশিষ্ট্য কাপড় ব্যবসায়ী মোঃ আবুল কালাম আজাদ শিশু মিয়া বলেন,কচুরীপানার বাধায় সকল ব্যবসা সহ আমাদের কাপড় ব্যবসায়ীগণের বেচাকেনা কমিয়া গেছে। তাই কুলিয়ারচর বাজারের সকল ব্যবসায়ী সহ সকল যাত্রীগন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।