বৃদ্ধা শাশুড়িকে রাস্তায় ফেলে গেল জামাতা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি | শুক্রবার, এপ্রিল ১৩, ২০১৮
বৃদ্ধা শাশুড়িকে রাস্তায় ফেলে গেল জামাতা
নারায়ণগঞ্জে এবার ৬০ বছরের বৃদ্ধা শাশুড়িকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে গেলেন বৃদ্ধার মেয়ের জামাতা। এর আগে ফতুল্লায় সন্তান মাকে বস্তাবন্দি করে ময়লার স্তূবে ফেলে গিয়েছিল। গত বছর চাষাগা শহীদ মিনারে বৃদ্ধ বাবাকে তার সন্তান ফেলে দিয়ে যায়। দিনকে দিন বেড়েই চলেছে এসব ঘটনা।

এবার জেলার বন্দরে নূরী বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নিয়ে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসা দিচ্ছেন আরেক নারী।

জানা গেছে, নূরী বেগমকে রাস্তার পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় কুড়িয়ে পেয়ে নিজ অর্থায়নে চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করছেন বন্দর ইউনিয়নের কুশিয়ারা এলাকার জোসনা বেগম। ১২ দিন ধরে হাসপাতালে রেখে নিজ খরচে চিকিৎসা করাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে নূরী বেগম নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের ২২নং ওয়ার্ডের ২৬নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জোসনা বেগম বলেন, কুশিয়ারা আমতলা এলাকায় রাস্তার পাশে একজন বৃদ্ধা মহিলা পড়ে থাকতে দেখি। দুই দিন পরও তার কোন স্বজনরা তার খোঁজ নিতে আসেনি। বৃদ্ধা মা অচেতন অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি।

তিনি জানান, বৃদ্ধা নূরী বেগম ফরিদপুরের নগরকান্দার মুরাইশাহ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের হান্নান মাতবরের স্ত্রী। তার মেয়ের নাম নীলা বেগম। তাকে তার মেয়ের জামাতা বন্দরে এনেছিল।

অসুস্থ বৃদ্ধার বরাত দিয়ে তিনি জানান, তার জামাতা একজন অর্থ লিপ্সু ব্যক্তি। প্রাণে মেরে ফেলার জন্য একাধিকবার মারধর করেছিল। অবশেষে তাকে অচেতন করে বন্দরে ফেলে রেখে চলে যায়।

এদিকে এ ব্যাপারে জোসনা বেগম বিষয়টি বন্দর থানা পুলিশকে জানান।

বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ জানান, বৃদ্ধা মহিলাকে জোসনা বেগম কুড়িয়ে তার চিকিৎসাসহ সেবাযত্ন করছেন। মানবিক দিক থেকে একজন মানুষ হিসেবে যা করা দরকার- তিনি তাই করছেন। আমি তাকে সাধুবাদ জানাই। তবে কথা দিলাম বৃদ্ধার উন্নত চিকিৎসা খরচ যতটুকু প্রয়োজন আমার শরনাপন্ন হলে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।