ঝিনাইগাতীতে বন বিভাগের অবহেলায় বেতবাগান বিলীন

| বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৮
ঝিনাইগাতীতে বন বিভাগের অবহেলায় বেতবাগান বিলীন
ষ্টাফ রিপোর্টার : বর্তমানে বেতের সোফা, চেয়ার, দোলনা এ ধরনের আসবাবপত্রের বেশ কদর রয়েছে। এসব পণ্য কুটির শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছে। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পের কাঁচামালের যোগান ঠিক রাখতে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে শাল বনের ভিতরে বেতের বাগান সৃজন করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
রাংটিয়া রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাঁশ, বেত ও মুর্তা বাগার সৃজন প্রকল্পের আওতায় ২০০০-১৪ অর্থ বছরে উপজেলার রাংটিয়া, গজনী ও তাওয়াকুচা বিটের ১৬৩ হেক্টর জমিতে বেত বাগান সৃজন করা হয়।
সম্প্রতি রাংটিয়া, গজনী ও তাওয়াকুচা বিট ঘুরে দেখা যায়, অনেক জায়গায় বেত গাছের ঝুপ কেটে নেওয়া হয়েছে। আবার কোন কোন জায়গায় বেত গাছ পুরে ছাই হয়ে গেছে। অযত্ম ও অবহেলার পরও যে বেত গাছগুলো টিকে আছে সেগুলোও এখন ধ্বংসের পথে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বন বিভাগ গত প্রায় ৭/৮ বছর আগে পাহাড়ে বেত গাছ লাগিয়ে ছিলেন। কিন্তু লাগানোর কয়েক মাসের মাথায় আগুনে পুরে বেত বাগান ধ্বংস হয়ে যায়। বনগুলোতে পাতা কুড়াতে গিয়ে অনেকেই বেত গাছগুলো কেটে বাড়িতে নিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে।
গজনী বিটের সামাজিক বনের বন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. দুলাল মিয়া বলেন,  শুষ্ক মৌসুমে মানুষের সৃষ্ট আগুনে বেত বাগান পুরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গজনী বিটের আওতায় বেত গাছ রোপণের পর ৮জন উপকারভোগীদের মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদেরকে বাতিল করা হয়।
রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ উপজেলায় প্রতি বছর বন্যহাতির আক্রমণে বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যহাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে, কুটির শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় বনের নিরাপত্তার জন্য শাল বনের ভেতরে বেত বাগান করা হয়েছিল। কিন্তু অসচেতন মানুষের সৃষ্ট আগুনে বেতগাছগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবু বন বিভাগের পক্ষ থেকে তা রক্ষার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করা হচ্ছে।