হাওরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, সুনামগঞ্জ | রবিবার, এপ্রিল ২২, ২০১৮
হাওরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের পাকতে শুরু করেছে বোরো ধান। কিছু এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। আর কয়েকদিনের মধ্যে পুরোদমে শুরু হবে ধানকাটা।তবে প্রতিবছরের মতো এরইমধ্যে সংকট দেখা দিয়েছে ধান কাটার শ্রমিকের। কৃষকদের আশঙ্কা শ্রমিক পাওয়া না গেলে মাঠেই পড়ে থাকবে তাদের সোনালি ফসল। এজন্য তারা ধান কাটার সময় পাথর উত্তোলন বন্ধ করে তাদের ধানকাটার কাজে লাগানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

জেলার হাওর বেষ্টিত তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা, বিশ্বম্ভরপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জসহ ১১টি উপজেলার কৃষক পরিবারের প্রধান  আয়ের উৎস বোরো ধান। বছরের ৬ মাস কৃষিকাজ আর বাকী ৬ মাস হাওরে মাছ ধরা ও অন্যান্য কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন হাওর পাড়ের ৮০ ভাগ লোক। প্রতি বছরের এই সময়েই হাওরে একের পর এক সমস্যা লেগেই থাকে। গত বছরের সম্পূর্ণ বোরো ধান হারানোর পর পর ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে এবার একটু দেরিতে চাষাবাদ করতে হয়েছে কৃষকদের। হাওরে মাঠে মাঠে এখন পাকতে শুরু করেছে বোরো ধান। জেলার কিছু কিছু এলাকায় ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। আবার ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাজার হাজার কৃষক পরিবার। তবে বিগত বছরগুলোর মতো এবারো দেখা দিয়েছে ধান কাটার শ্রমিক সংকট। ঠিক সময়ে ধান ঘরে তুলতে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে কৃষকদের।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার আবাদ জমির পরিমান ২ লাখ ৭৬ হাজার ৪ শত ৪৭ হেক্টর। এবার ২ লাখ ২১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। আর বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ১২ লাখ ১৯ হাজার ৪১৪ মেট্রিক টন ধান। যার মূল্য ২ হাজার ৯২৪ কোটি ৬৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

ধান কাটার শ্রমিকরা জানায়, এখন তারা খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন।  পুরোদমে ধান কাটা শুরু হলে তাদের ব্যস্ততা আরো বাড়বে। এজন্য  শ্রমিক সংকটকে দায়ি করলেন তারা।

খেলু মিয়া, সংকর, বিপুল, বোরহান, সাদেক আলীসহ জেলার বিভিন্ন হাওর পাড়ের কৃষকরা জানান, এবছর ধানের ফলন বেশী হলেও শ্রমিকের সংখ্যা বাড়েনি। ধান কাটার শ্রমিক সংকট এখনই দেখা দিয়েছে। আগে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দল বেধে শ্রমিকরা হাওড় পাড়ে আসলেও গত কয়েক বছর ধরে অকাল বন্যায় বোরো ধান কাটতে ধান কাটার শ্রমিকরা আসতে চাচ্ছেন না। বেশী টাকা দিলেও রাজি হচ্ছেন না তারা।

এদিকে জেলার হাওরাঞ্চলে এবার ধান কাটার শ্রমিক না পাওয়া গেলে জমিতেই পাকা ধান থেকে যাবে এমন আশঙ্কা করছে কৃষকরা।

কৃষক মাসুক মিয়া, শফিকুল ইসলাম, হেলিমসহ জেলার বিভিন্ন হাওর পাড়ের বাসীন্দারা বলেন, জেলার বিভিন্ন নদীতে হাজার হাজার বালু, পাথর শ্রমিক দৈনিক মুজুরি ভিত্তিতে কাজ করছে। তাদের এবার হাওরে বোরো ধান কাটার কাজে লাগালে শ্রমিক সংকট থাকবে না। আর তা না পারলে বিপদে পড়তে হবে তাদের। এজন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

শ্রমিক সংকটের কথা স্বীকার করে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, উপজেলার হাওরে ধান কাটা শুরু করেছে বিক্ষিপ্তভাবে। কয়েক দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ হাওরের ধান কাটার উপযুক্ত হবে। শ্রমিক সংকট নিরসনে আমরা যাদুকাটা নদী, ফাজিলপুর, ট্যাকেরঘাট কয়লা, চুনাপাথর প্রকল্প এলাকার শ্রমিকদের পুরো বৈশাখ মাস বোরো ধান কাটার কাজে আসতে বলেছি। তারা আসলে শ্রমিক সংকট থাকবে না।