ভুট্টা পাতায় শ্রমিকের জীবিকা

রাহেবুল ইসলাম টিটুল, লালমনিরহাট | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৬, ২০১৮

ভুট্টা পাতায় শ্রমিকের জীবিকা
লালমনিরহাটে লাভজনক ফসল হিসেবে দিনদিন বাড়ছে ভুট্টা চাষ। এখন ভুট্টা জেলার অন্যতম প্রধান অর্থকারী ফসল। তিস্তা চরের পাশাপাশি অন্যান্য আবাদি জমিতেও বেশ কয়েক বছর ধরে ভুট্টা  চাষ হচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে।এ বছর ভুট্টা চাষ লক্ষ্যমাত্রাও ছড়িয়ে গেছে। আর ফলনও ভাল পাওয়ার আশা করছেন কৃষকরা।

ইতোমধ্যে চর এলাকাগুলোতে ভুট্টা ঘরে তোলা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে শুরু হবে এ ফসল ঘরে তোলা। তাই এখন কৃষকরা তাদের ভুট্টা ক্ষেতে গাছের মাথা ও পাতা ছিঁড়ে ফেলছেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন চর অঞ্চলের নিম্ন আয়ের   মানুষ। ভুট্টা গাছের পাতা বিক্রি করে সংসার চালিয়ে নিচ্ছেন তারা। প্রতিবিঘা ভুট্টা ক্ষেতের পাতা ও গাছের মাথা কাটতে দুইজন করে শ্রমিক লাগে। কিন্তু তা এখন আর লাগছে না। নিম্ন আয়ের লোকজন বিনামূল্যে পাতা ছিঁড়ে ও মাথা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। পরে তার বাজারে বিক্রি করে আয় করছেন তারা। এ কাজে জড়িয়ে পড়েছেন বাড়ির বৃদ্ধ ও শিশুরাও। আর দাম কম হওয়ায় অনেকেই গো-খাদ্য হিসেবে ভুট্টাপাতা কিনছেন খামারিরা। একদিকে খামারিরা তাদের পশু খাদ্য পাচ্ছেন বিপরীতে কৃষকদের ভুট্টা উৎপাদনে খরচও কমে যাচ্ছে।

জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ভুল্লাহাট, ভোটমারী, হাতীবান্ধা উপজেলার ঘুন্টি, পারুলিয়াসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ভুট্টা পাতার হাট বসছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী এলাকার দিনমজুর আলী মিয়া বলেন, বর্তমানে এলাকায় কোনো কাজ নেই। তাই আমি ও আমার স্ত্রী প্রতিদিন সকালে চরে গিয়ে ভুট্টা পাতা ছিঁড়ে নিয়ে এসে ভোটমারী বাজারে বিক্রি করি। এতে প্রতিদিন ২৫০ টাকা থেকে ৩শ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। এ দিয়ে চলছে আমাদের সংসরা। একই কথা জানালেন আরও কয়েকজন শ্রমিক। এদিকে কাশিরাম চরের খামারি আশরাফুল ইসলাম জানান, গরুর জন্য বর্তমানে ঘাস পাওয়া যায় না। আর ভুট্টা পাতাকে ঘাসের  বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেনও তারা। আর ভুট্টাপাতা দামেও সস্তা।   

উপজেলার চর বৈরাতী এলাকার কৃষক আব্দুল হামিদ জানান, ভুট্টা তোলার ১৫/২০ আগে গাছের পাতা ও মাথা কেটে দিতে হয়। এতে ভুট্টায় সূর্যের আলো পড়লে ভুট্টার রং ভালো হয়। প্রতিবিঘা ভুট্টা ক্ষেতে পাতা ও মাথা কাটতে ২ জন করে শ্রমিক লাগে। কিন্তু এখন তা লাগছে না। অনেকেই পাতা ও গাছের মাথা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে আমাদের উৎপাদন খরচ কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের লোকজন আয়ের পথ পেয়েছে।

কালীগঞ্জ নদী ও চর উন্নয়নের সভাপতি অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান জানান, এ সময়টা কাজ না থাকায় চর অঞ্চলের নিম্ন আয়ের লোকজন বেকার হয়ে পড়ে। কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, ভুট্টার পাতা ও ভুট্টা গাছের মাথা বিক্রি করে আয় করছেন তারা।