ঝিনাইগাতী সীমান্তে চা চাষের উজ্জল সম্ভাবনা

জাহিদুল হক মনির | শুক্রবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৮
ঝিনাইগাতী সীমান্তে চা চাষের উজ্জল সম্ভাবনা

ভারত সীমান্তবর্তী শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ি গ্রামগুলোতে চা চাষাবাদের উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে। এ গারো পাহাড়ের মাটির গুনাগুন ও আবহাওয়া চা চাষাবাদের অত্যন্ত উপযোগি।
২০০৪ সালে বাংলাদেশ টিবোর্ড চা চাষাবাদের উদ্দেশ্যে গারো পাহাড়ের মাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চা চাষাবাদের উপযোগী হিসেবে ঘোষণা করেন। তাদের মতে, জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় ১৮শ’ ৫৬ একর, নালিতাবাড়ী উপজেলায় ২৫শ’ একর ও শ্রীবরদী উপজেলায় ১১শ’ ৫১ একর জমি রয়েছে যাতে চা চাষ করা সম্ভব। কিন্ত উদ্যোগের অভাবে আজো তা গড়ে উঠেনি।

এ গারো পাহাড়ের তাওয়াকোচা, গুরুচরনদুধনই, পানবর, বাকাকুড়া, ছোটগজনী, গান্দিগাঁও, হালচাটি, গজনী, নওকুচি, রাংটিয়া, ডেফলাই, সন্ধ্যাকুড়া, গোমড়া ও হলদিগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর পরিমাণের পতিত জমি রয়েছে। এতে চা চাষ করে প্রচুর পরিমাণের মুনাফা অর্জন সম্ভব। সরকারি ও বেসকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহন করা হলে এখানে চা চাষাবাদ করে প্রচুর পরিমানের অর্থ আয় ও গারো পাহাড়ের শতশত বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি করা সম্ভব বলে মনে করেন চা গবেষকরা।

কিন্তু সরকারি বা বেসরকারিভাবে এর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
তবে বাংলাদেশ চা বোর্ডের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ১৪ বছর পর গারো হিল্স টি কোম্পানী নামে একটি প্রতিষ্ঠান চা চাষের উদ্যোগ হাতে নেয়। ওই কোম্পানী ইতিমধ্যে ২৭ হাজার চারা উৎপাদন করেছে। এসব চারা ২৭জন কৃষকের মাধ্যমে ১৬টি স্থানে রোপণ করে প্রদর্শনী চা বাগান করা হবে। আগামী ২৯ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে চারা বিতরণ উদ্বোধন করবেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন।
কোম্পানীর ব্যবস্থাপক মো. আমজাদ হোসেন ফনিক্স বলেন, জেলার ৩টি উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠী ও পাহাড়ি অধিবাসী সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে ক্ষুদ্র পরিসরে চা বাগান গড়ে তোলবেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারিভাবে সহযোগীতা পেলে গারো পাহাড়ে চা চাষ করে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।
শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ চা বোর্ড’র তথ্য মতে, জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে চা চাষের উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে।