চা চাষাবাদে যুক্ত হলো ঝিনাইগাতী

ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি | সোমবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৮

চা চাষাবাদে যুক্ত হলো ঝিনাইগাতী

ভারত সীমান্তবর্তী শেরপুরের ঝিনাইগাতী গারো পাহাড় অঞ্চল বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্তার মাধ্যমে চা চাষে যুক্ত হয়েছে। গত রোববার উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও এলাকার বনরাণী ফরেস্ট রিসোর্টে এ চাষের উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি বিশেষজ্ঞ দল এ জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জমির মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে ঝিনাইগাতী উপজেলায় ১৮শ’ ৫৬ একর, নালিতাবাড়ী উপজেলায় ২৫শ’ একর ও শ্রীবরদী উপজেলায় ১১শ’ ৫১ একর জমি চা চাষের উপযোগী ঘোষণা করেন।

কিন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক জমি, অর্থায়ন, উদ্যোক্তা ও সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তা গড়ে উঠেনি। প্রায় ১৪ বছর পর এবার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গারো হিলস টি কোম্পানীর উদ্যোগে চাষ শুরু হয়েছে। আর এ চা চাষের মাধ্যমে এ অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ওই কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, জেলার গারো পাহাড় অঞ্চলে ২৭ জন ক্ষুদ্র চাষীর মাধ্যমে ২৭ হাজার চা চারা রোপণ করে ২৭ টি প্রদর্শনী বাগান করা হচ্ছে।
চা চাষী মো. আব্দুল মোত্তালেব বলেন, ‘এ চা চাষটা আমগর গারো পাহাড়ে আরও অনেক বছর আগে থেকে আসবো করে শুনতাছি। গত বৈশাখ মাসে ফনিক্স সাহেব (কোম্পানির চেয়ারম্যান) আইসে আমগর পঞ্চগড় নিয়ে গেছিল। ওইখানে গিয়ে টেকনাফ, তেঁতুলিয়া, জিরো পয়েন্ট বেড়াইয়ে দেখলাম চা চাষ করে ওই দেশটা (পঞ্চগড়) খুব উন্নত হয়ছে। আর আমরা যে ফসলগুলা আবাদ করি তা হাতি খাইয়ে যা গা। এতে আমরা লাভবান হয় না। শুনছি চা গাছটা হাতি খাই না। তাই আমরা এবার চা চাষ করে অনেক লাভবান হব।’

আদিবাসী নেতা অরুন বলেন, ‘গারো পাহাড়ে বন্যহাতির আক্রমণে ফসলাদি যথেষ্ট পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত। আর এজন্য এ এলাকার চাষী ভাইয়েরা ফসল ঘরে তুলতে পারে না। যেহেতু এ এলাকা চা চাষে উপযোগী তাই চা চাষ করতে চাষীরা ব্যাপক আগ্রহী।’
পঞ্চগড়ের সবুজ এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজিং পার্টনার শাহিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমি নিজে একজন চা চাষী। যে এলাকায় টহরুই, কালোগোটা, কালো নেওয়া অর্থ্যাৎ নিশি বৃক্ষ গাছ জন্মে। ওই এলাকা চা চাষের জন্য উপযোগী। এখানে এসে এ গাছগুলো প্রচুর দেখতে পেলাম। তাই এ এলাকায় প্রচুর চা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। চা চাষীদের সাথে উদ্যোক্তা হিসেবে অংশ গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।’
গারো হিলস টি কোম্পানীর চেয়ারম্যান আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘এ চা চাষের মাধ্যমে যে চা উৎপাদন হবে তা শেরপুর জেলা তথা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি গজনী পর্যটন কেন্দ্রের জন্য বড় অবদান রাখবে।’
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট’র (বিটিআরআই) সাবেক সহকারী অধীক্ষক এমএ খালেক জানান, ‘এ জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চা চাষাবাদের জন্য জমির মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার সময় আমি বিশেষজ্ঞ দলের সাথে ছিলাম। এখানকার মাটি, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও অন্যান্য পরিবেশগত অবস্থা চা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানে চা উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রাশেদুল হাসান বলেন, ‘এক সময় চা চাষ সিলেটেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০০০ সালে সালে পঞ্চগড়ে ও ২০০৫ সালে চট্টগামে চা চাষ শুরু হয়। এখানেও দীর্ঘ দিন গবেষণা ও চেষ্টা করা হচ্ছিল চা চাষের জন্য। আমরা যদি মাটির দিক থেকে চিন্তা করি এখানকার মাটি সিলেট-পঞ্চগড়ের মাটি মোটামুটি একই রকম। সুতারাং এখানে চা চাষ উপযোগী। বেসরকারী উদ্যোগে যে চা চাষ শুরু হয়েছে তা সাধুবাদ জানাই। এখানে চা বাগান গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পর্যটনেও আকৃষ্ট হবে। চা চাষে যে কান ধরনের সহযোগিতা লাগলে আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনের ভেতরে থেকে করা হবে।’
উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, ‘এ গারো পাহাড়ে চা চাষাবাদে যে উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন তার মাধ্যমে এ অঞ্চলের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচিত হবে। সরকারের নিকট এ অঞ্চলে চা চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।