নীলফামারীতে দীর্ঘ ৪ বছর পর লিপা রানীর মৃতদেহ “দাফন সম্পন্ন।

বখতিয়ার ঈবনে জীবন, | শনিবার, মে ৫, ২০১৮
নীলফামারীতে দীর্ঘ ৪ বছর পর লিপা রানীর মৃতদেহ “দাফন সম্পন্ন।

 সত্যিকারে প্রেম শুধু কাছেই টানেনা দুরেও ঠেলে দেয়। এই চিরন্তন বানীটিকে মিথ্যা প্রমান করে প্রেমিক যুগল উভয় উভয়কে কাছে টেনে নিলেন। তবে প্রেমের সে টান,জীবনে নয় মরনে। কবরে পাশাপাশি ঠাই নিয়ে এই প্রেমিক লাজু ও প্রেমিকা লিপারাণী আবারো প্রমান করলেন, প্রেম কোন ধর্ম মানে না, মানে না কোন জাত বিচার।

তাদের প্রেমের এই কাহিনী নানা নাটকীয়তা ও দুটি ধর্মের মধ্যে আইনী লড়াইয়ে একটি ধর্মের জয় হলেও সাধারণ মানুষ বলছে এখানে ধমের্র নয় প্রেমের জয় হয়েছে। কারণ তারা মৃত্যুকে বরণ করেছে তবু ও কেউ কাউকে ছাড়তে রাজি হয়নি।
নীলফামারীর ডোমারে দীর্ঘ ৪ বছর পর লিপা রানীর মৃতদেহ উচ্চ আদালতের নির্দেশে ইসলামী শরিয়াহ মতে দাফন সম্পন্ন হলো।

৪ মে শুক্রবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘড় থেকে পুলিশি পাহাড়ায় দুপুরে লিপা রাণীর মৃতদেহ উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের র্প্বূ-বোড়াগাড়ী তার শশুর সাবেক ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলামের বাড়ীতে পৌছে।এসময় সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোছাঃ উম্মে ফাতিমা, থানা অফিসার ইনচার্জ মোকছেদ আলী,ওসি(তদন্ত) ইব্রাহীম খলিল সহ সঙ্গীয় ফোর্স উপস্থিত থেকে লাশ তার স্বামী হুমায়ুন কবির লাজুর কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। এর আগে লিপারাণীর মৃতদেহ সেখানে পৌছলে তাকে একনজর দেখার জন্য হাজারো উৎসুক জনতা ভীর জমায়। বিশেষ করে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

উলে¬খ্য গত ১২ই এপ্রিল বৃহস্পতিবার হাইকোটের বিচারপতি মোঃ মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ইসলামি শরীয়াহ রিতি অনুযায়ী হোসনে আরা বেগম (লিপা)র মৃতদেহ দাফনের আদেশ দেন। মামলার বিবরণে যানাযায়, নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার বামুনিয়া ইউনিয়নের অক্ষয় কুমার রায়ের মেয়ে লিপা রাণী রায়ের সাথে পার্শ্ববর্তী বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলামের ছেলে হুমায়ুন কবির লাজুর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর তারা দুজন নীলফামারী নোটারী পাবলিকে এ্যাভিডেভিটের মাধ্যমে ২লক্ষ ১ হাজার ৫শত ১টাকা দেন মোহরে বিয়ের করে। এর আগে লিপারানী ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে ।

সেখানে লিপা রানীর নতুন নাম দেয়া হয় হোসনে আরা বেগম(লাইজু)। কিন্তু বাধসাধে নিয়তি, ২০১৩ সালে ২৮ অক্টোবর লিপার বাবা অক্ষয় কুমার বাদী হয়ে আদালতে ছেলের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করে। সে সময় বিয়ের স্বপক্ষে কাগজপত্রসহ আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি দেয় লিপা। আদালত অপহরণ মামলাটি খারিজ করে দেয়। এরপর মেয়ের বাবা মেয়েকে অ-প্রাপ্ত বয়স দাবি করে আপিল করে। তখন আদালত আবেদন আমলে নিয়ে মেয়েটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য রাজশাহী সেফ হোমে পাঠিয়ে দেয়। লিপাকে সেফ হোমে রেখে ২০১৪ সালের ১৪ই জানুয়ারী লাজু রাজশাহী থেকে লিপার বাবার সাথে ট্রেনে বাড়ী ফেরার সময় লিপার পরিবার পরিকল্পিত ভাবে লাজুকে বিষ পান করায়, পরদিন তার মৃত্যু হয়। বলে অভিযোগ তার পরিবারের। স্বামীর লাশ দেখতে আশার পথে লিপাকে তার বাবা চালাকি করে নিজ বাড়ীতে নিয়ে আটকে রাখে এবং শারিরিক মানুষিক নির্যাতন চালায়। ২০১৪ সালের ১০ই মার্চ লিপা বিষপানে আত্মহত্যা করে।

এর পর লাশের সৎকারের দাবীতে নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী আদালতে আবেদন করেন শশুর জহুরুল ইসলাম ও অপরদিকে মেয়ের বাবা অক্ষয় কুমার। ৪ বছরের বেশি সময় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে হিমঘড়ে পড়ে থাকে লিপারাণীর লাশ। দীর্ঘদিন আইনী লড়াই শেষে ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল লিপার লাশ ইসলামী শরিয়া মতে দাফনের নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। মেয়ের বাবার পক্ষে শুনানী করেন এ্যাডভোকেট সমীর মজুমদার, আর ছেলের বাবার পক্ষে ছিলেন ব্যারিষ্টার শফিউর রহমান।