ক্যামেরার যাদুকর বুলেট

হারুন উর-রশিদ,ফুলবাড়ী দিনাজপুর | বৃহস্পতিবার, মে ১০, ২০১৮
ক্যামেরার যাদুকর বুলেট

ক্যামেরা মেরামতের একজন দক্ষ কারিগরী মো. আবু তালেব আলী ওরফে বুলেট (৪৭)। যাদুকর বললেও অত্যুক্তি হবে না। কারণ স্থির কিংবা ভিডিও যে কোন ধরনের ক্যামেরা নিমিষেই মেরামত করে দেন তিনি। মজুরীও নেন যৎসামান্য। তাঁর সুনাম আছে গোটা উত্তরাঞ্চলজুড়ে। ক্যামেরা নিয়ে সমস্যায় পড়লেই তাঁর কাছে ছুঁটে আসেন ক্যামেরা মালিকরা। তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘বুলেট ক্যামেরা সার্ভিস’। যা দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলা শহরের জোলাপাড়া নামক স্থানে অবস্থিত।

বুলেটের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ সময়ে বগুড়ার একটি ক্যামেরা সার্ভিসিংয়ের দোকানে অনেকটাই শখের বশে ক্যামেরা মেরমতের কাজ শেখেন তিনি  (বুলেট)। সেখানে একটানা প্রায় ৬ বছর কাজ করেন তিনি। তাঁর মনের স্বপ্ন ও ইচ্ছে ছিল কাজকর্ম শিখে শেষে বগুড়াতেই ক্যামেরা সার্ভিসিংয়ের একটি দোকান খুলে বসবেন তিনি। কিন্তু নানা কারণে তা আর হয়ে উঠেনি। তখন অনেকটাই নিরূপায় হয়ে তাঁর নিজ উপজেলা দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে ফিরে আসেন বুলেট। এর পর সেখানে একটি দোকান ভাড়ায় নিয়ে ক্যামেরা সার্ভিসিংয়ের কাজ শুরু করেন তিনি। এভাবে কিছুদিন কাজ করার পর ভাড়া দোকানটি ছেড়ে দেন। পরে ফুলবাড়ি পৌর শহরের নিজ বাড়ি জোলাপাড়ায় গড়ে তোলেন ক্যামেরা সার্ভিসিংয়ের একটি দোকান। নাম দেন “বুলেট ক্যামেরা সার্ভিস।”  তাঁর পাকা বাড়ি সামনে একটি কক্ষে ক্যামেরা মেরামতের দোকান। অপর পাশে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেন তিনি।

ক্যামেরার যাদুকর হিসেবে খ্যাত বুলেট যে কোন ক্যামেরাই হাতে নিয়ে মুর্হুতের মধ্যে তা খুলে ফেলেন। অল্প সময়েই তা মেরামতও করে দেন। মজুরীও নেন যৎসামান্য। এভাবে তাঁর ক্যামেরা মেরামতের যাদুকরী বিদ্যার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে সারা উত্তরাঞ্চলে।  বুলেট জানান,  যমুনা সেতু পশ্চিম প্রান্ত থেকে উত্তর জনপদের পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা জেলার মানুষ তাদের স্থির ও ভিডিও ক্যামেরার সমস্যা হলেই চলে আসেন তাঁর দোকানে।

বুলেট  আরো জানান, ক্যামেরা মেরামতের কাজটি অত্যন্ত ধৈর্যে ও ঠান্ডা মাথার ব্যাপার। তাই সেভাবে শহরের কোলাহলপূর্ণ জায়গায় ছেড়ে শান্ত, সুনিবিড় এলাকায় বাড়িতে গড়ে তুলেছেন তার ক্যামেরা সার্ভিসিং দোকানটি। সেখানে নিরিবিলি পরিবেশে একান্তে বসে দক্ষতার সঙ্গে ক্যামেরা মেরামতের কাজটি করে থাকেন তিনি (বুলেট)। বুলেটের সার্ভিসিংয়ের দোকানটি চারিদিকে থাই গ্লাস দিয়ে সুসজ্জিত। দোকানের ভেতরে অটোবি’র শোকেজ (আলমিরা)। আর সেই শোকেজের মধ্যে বিপুল সংখ্যক প্লাষ্টিকের বক্সে ক্যামেরার খুচরা যন্ত্রাংশ। সে সব বক্স থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ খুঁজে নিয়ে ক্যামেরায় লাগিয়ে দিচ্ছেন। বুলেট মৃদুভাষী একজন মানুষ। নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া একটি কথাও বলেন না তিনি।  অত্যন্ত নিরবমনে তাঁর কাজটি করে যান। তিনি প্রচারবিমূখ একজন মানুষ বটে। তাঁর দোকানে নেই কোন সাইনবোর্ড। শুধুমাত্র দোকানের থাই গ্লাসে নিজের মোবাইল নম্বরটি লেখা রয়েছে।

কথা প্রসঙ্গে বুলেট জানান, তিনি প্রচারে কিংবা কথায় নয়, একমাত্র কাজে বিশ্বাসী। কারণ ভাল কাজেই তাকে প্রচার করিয়ে দেবে। তাঁর কাজ ভালো পেলে মানুষই তাঁর প্রচার করবেন। মানুষ অবশ্যই তার কাছে ছুঁটে আসবেন। ভাল কাজের মাধ্যমে তাঁর প্রচার হোক এটিই চান তিনি। বুলেট ব্যক্তিগত জীবনে বুলেট বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক।