গৃহবধূ ধর্ষনের শিকার হয়ে এলাকাছাড়া টাকা দিয়ে ধামাচাঁপা দেওয়ার চেষ্টা

মোঃ ফয়সাল হাওলাদার | মঙ্গলবার, মে ১৫, ২০১৮
 গৃহবধূ ধর্ষনের শিকার হয়ে এলাকাছাড়া টাকা দিয়ে ধামাচাঁপা দেওয়ার চেষ্টা

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে এক গৃহবধূকে ধর্ষনের পর এলাকা থেকে বিতারিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যপক গুঞ্জন ছড়িয়েছে। ধর্ষনের পর ওই গৃহবধূকে প্রভাবশালী ধর্ষকরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছে বলে জানা গেছে।

যাতে করে ধর্ষনের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পারে ধর্ষকরা। ওই গৃহবধূর স্বামী সুজন শেখ তার স্ত্রীর ধর্ষনের কথা জানতে পেরে বিচার ও তার স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার আশায় ঘুরে বেরাচ্ছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও থানা পুলিশের দারে। কিন্ত কেউ তার সুরাহা দিচ্ছেনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজদিখান উপজেলার উপজেলা মোড় সোহরাব মোল্লার বাড়ীর ভাড়াটিয়া সুজন শেখ প্রায় ১ বছর যাবৎ ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করছিল। বাড়ীর মালিক সোহরাব মোল্লা ভাড়াটিয়া সুজন শেখ বাড়ীতে না  থাকায় তার স্ত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে একই মহল্লার পাশাপাশি বিল্ডিং এর শাহ আলমকে নিয়ে ওই গৃহবধূকে পালাক্রমে একাধীক বার ধর্ষন করে। পরে বিষয়টি এলাকায় গুঞ্জন ছড়ালে ধর্ষকরা ওই গৃহবধূকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে এবং বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি দেখায়। বর্তমানে সুজন শেখ তার স্ত্রী কোথায় বলতে পারছেন না।  
এব্যাপারে ভুক্তভোগী সুজন শেখ জানান, আমি সিরাজদিখান উপজেলার যুবলীগের আহবায়ক নাহিদের কাছে বিষয়টি জানাই। পরে  নাহিদ তার অফিসে শাহ আলমকে ডেকে এনে জিজ্ঞাস করে সুজনের স্ত্রী কোথায়। শাহ আলম বলে আমার স্ত্রী কোথায় আছে সে জানে না। তারপর সিরাজদিখান থানায় আমি অভিযোগ করতে গিয়েছি এক পুলিশ আমাকে জিজ্ঞাস করে তুমি কতটাকা নিয়ে আসছো মামলার করার জন্য? আমি বলি ২০০ টাকা নিয়ে আসছি। পরে পুলিশ আমাকে বলে মামলা না করে ২০০ টাকা দিয়ে দুধ আর কলা কিনে খাও। পরে আমি রশুনিয়ার চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেনের কাছে যাই। চেয়ারম্যান সোহরাব মোল্লাকে ডেকে এনে বলে দিয়েছেন আমার স্ত্রীকে এনে দেওয়ার জন্য।   
ওই গৃহবধূ ধর্ষিতার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কান্নাঝরা কন্ঠে জানান, সোহরাব মোল্লা আমাকে তার বাড়ীতে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ভাবে কু-প্রস্তাব দিতো। একদিন আমাকে শাহ আলমের বিল্ডিংএ কাজের জন্য ডাকে শাহ আলম।

পরে গিয়ে দেখি সোহরাব মোল্লা আর শাহ আলম বসে আছে। আমি তার বিল্ডিং এর রুম থেকে বাইরে আসতে চাইলে আমাকে জড়িয়ে ধরে দুজনেই ধর্ষন করে। ধর্ষনের কথা আমি কাউকে লজ্জায় এবং ভয়ে বলতে পারিনি। পরে তারাই আমার নামে বদনাম রটাইয়া আমাকে হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছে। সোহরাব মোল্লার টাকার কাছে সবাই বিক্রি হয়ে যায় বলে আমার ধর্ষনের বিচার কেউ করতে চায়না। আমি এদের বিচার চাই।
এব্যাপারে সোহরাব মোল্লার কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ধর্ষনের বিষয়ে আমি জড়িত না জড়িত শাহ আলম। আমি ঐ মেয়ে ও তার স্বামীকে অনেক টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করেছি এবং ঐ মেয়েকে এনে তার স্বামীর কাছে দেওয়ার জন্য ইকবাল চেয়ারম্যান এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেছি।  
রশুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চোকদার জানান, ঘটনাটি শুনেছি তার পর শাহ আলমকে আমি চাপ সৃষ্টি করেছি মেয়েটিকে ফিরিয়ে আনার জন্য। ঐ মেরে স্বামীও আমার কাছে কয়েকবার এসেছে। মেয়েটিকে আনার পর সঠিক তথ্য উদঘাটন করে সঠিক বিচারের চেষ্টার সহযোগীতা করবো।