সিরাজদিখানে প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাক মেইল,দুই লাখ টাকা দাবী-এলাকায় তোরপাল

মোঃ ফয়সাল হাওলাদার, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ | বৃহস্পতিবার, মে ১৭, ২০১৮

সিরাজদিখানে প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাক মেইল,দুই লাখ টাকা দাবী-এলাকায় তোরপাল


মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখানে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে কৌশলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে নিজাম (২৮) নামে এক বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায়  প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাক মেইল করে দুই লাখ টাকা দাবী করলে এলাকায় তোরপারের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের ছোট পাউলদিয়া গ্রামে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বখাটেকে  গত সোমবার রাতে থানা পুলিশ আটক করলেও পরদিন রাতে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের ছোট পাউলদিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা জালাল তালুকদারের বখাটে ছেলে নিজাম তালুকদার (২৮) একই গ্রামের সৌদী প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। গৃহবধুকে নিয়ে সে বিভিন্ন স্থানে শারিরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং সেই দৃশ্য কৌশলে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে নিজাম তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা দাবী করে। এ নিয়ে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানী হলে এলাকায় বেশ আলোড়ন   ও মোখরোচক কথার সৃষ্টি হয়।

আরো জানা যায়, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এই  বখাটে নিজামের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপকর্মের বিচার সালিশ করেছে। নিজাম তালুকদারের পিতা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় চেয়ারম্যানকে পাত্তা দেয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাই উপায়ন্তর না পেয়ে গৃহবধূর স্বামীর পরিবারের লোকজন ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মতিন হাওলাদারের সহযোগিতা চান। এর পর অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাতে সিরাজদিখান থানার ওসি আবুল কালামের নির্দেশে পুলিশ নিজামকে বয়রাগাদী থেকে ধরে এনে থানা হাজতে আটক রাখে। গত মঙ্গলবার রাতে সালিশ বৈঠক করা হবে বলে তাকে ছাড়িয়ে নেয়।

দুই পক্ষ মিল হলে নিজামকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এলাকাবাসী অনেকে সাংবাদিকদের আরো জানান, নিজাম এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী, মোবাইল ফোনের দোকানের অন্তরালে সে মাদক ও নারী ঘটিত বেপারে জড়িত রয়েছে।

এলাকায় বখাটে ও প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ ভয়ে তাকে কিছু বলতে সাহস পায় না।
সিরাজদিখান থানা ওসি (প্রশাসন) মোঃ আবুল কালাম জানান, মহিলাকে মোবাইল ফোনে উত্যাক্ত করায় অভিযোগের ভিত্তিতে নিজামকে আটক করা হয়। পরে তারা দুই পরিবার একই গোষ্ঠি হওয়ায় পরদিন সালিশ মিমাংশা করবে বলে তাকে ছাড়িয়ে নেয়।  অভিযোগ না করাতে চাওয়ায় দুই পক্ষের অনুরোধে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।