অর্থ আত্মসাৎ মামলায় রাগীব আলীর বিচার শুরু

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | শনিবার, মে ১৯, ২০১৮
অর্থ আত্মসাৎ মামলায় রাগীব আলীর বিচার শুরু

পৌনে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় ব্যবসায়ী রাগীব আলীর বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে সিলেটের একটি আদালত।

বৃহস্পতিবার সিলেট মহানগর হাকিম প্রথম আদালতের বিচারক মামুনুর রহমান সিদ্দিকী এই অভিযোগ গঠন করেন। ঢাকাটাইমসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ আলী।

২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে রাগীব আলীর বিরুদ্ধে ২ লাখ ১৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকা আনুমানিক দুই কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা) আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি করেন নাবিদা ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান গুলজার। পরে মামলাটি মহানগর হাকিম আদালতে স্থানান্তর হয়।

মামলার বলা হয়, নাবিদা ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের অনুকূলে ২০০৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাউথ ইস্ট ব্যাংকের মঞ্জুরিপত্রমূলে তিন কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়। এর মধ্যে দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা তিন কিস্তিতে উত্তোলন করে ফাউন্ডেশন।

২০০৮ সালের ৫ জুলাই সাউথ ইস্ট ব্যাংকে বন্ধক দেয়া সম্পত্তির নিলাম বিজ্ঞপ্তি রাগীব আলীর মালিকানাধীন সিলেটের ডাক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 

যে ব্যাংক থেকে এই ঋণ নেয়া হয়, সেই সাউথ ইস্ট ব্যাংকের একজন পরিচালক ছিলেন রাগীব। আর এই নিলামের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পর রাগীব আলীর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ হয় গুলজারের। রাগীব তখন বলেন, তার সাথে যদি যোগাযোগ করে লন্ডনে লেনদেন শেষ না করা হয় তাহলে সম্পত্তি নিলাম হয়ে যাবে।

রাগীব আলীর কথামতো ২০০৯ সালের ৩০ মে দুই লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড (তখন এক পাউন্ডের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় ছিল ১৩০ টাকা, সে হিসেবে বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ২ কোটি ৭৯ লক্ষ ৫০ হাজার) নগদ দেয়া হয়।

পরে রাগীব আলীর নির্দেশ ও পরামর্শ অনুসারে ২০১০ সালের ১০ ডিসেম্বর সুদ মওকুফের জন্য আবেদন করা হয়।


কিন্তু পরে জানা যায়, ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন রাগীব আলী।

তারাপুর চা-বাগানের জমি আত্মসাতের মামলায় ২০১৭ সালের ২ জানুয়ারি রাগীব আলী ও তার ছেলের ১৪ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

এই মামলা হওয়ার পর রাগীব অবৈধভাবে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের নভেম্বর ভারতে ধরা পড়েন রাগীব আলী। পরে দেশে আসার পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সাজা হলেও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর গত ২৯ অক্টোবর সিলেট কারাগার থেকে মুক্তি পান রাগীব আলী  ও তার ছেলে।