বৃষ্টি খোঁড়াখুঁড়িতে বেহাল রাজধানী

জয়শ্রী ভাদুড়ী | মঙ্গলবার, মে ২২, ২০১৮
বৃষ্টি খোঁড়াখুঁড়িতে বেহাল রাজধানী
অল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেছে রাজধানী। বৃষ্টি শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পার হলেও পানি না নামায় তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। রাস্তা খুঁড়ে রাখায় বেশ কয়েকটি জায়গায় কাদা পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে সড়ক। পানিতে ডুবে থাকা ভাঙা রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে হেলেদুলে চলছে যানবাহন। বৃষ্টিতে বেহাল রাস্তায় তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ডুবে গেছে রাজধানীর মিরপুর, মানিকনগর, মালিবাগ, ওয়্যারলেস, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, পল্লবী সাংবাদিক কলোনির সামনে কালশী রোড, দৈনিক বাংলাসহ বিভিন্ন এলাকা। সরেজমিন আগারগাঁও-মিরপুর-১০ এলাকায় দেখা যায়, রাস্তার মাঝে চলছে মেট্রোরেল প্রজেক্টের কাজ। দুই পাশে পানি জমে রাস্তা থেকে শুরু করে ডুবে গেছে ফুটপাথও। পানি ঠেলে ঢিমেতালে যাতায়াত করছে যানবাহন। এদিকে বৃষ্টির কারণে মেট্রোরেল প্রজেক্টের কাজে তৈরি হয়েছে প্রতিবন্ধকতা। বৃষ্টির পানি কাদায় কাজ এগিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন শ্রমিকরা। প্রকল্পের ভিতরে স্তূপ করে রাখা বালু বৃষ্টির পানিতে কাদায় পরিণত হয়েছে। একই অবস্থা মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বরে যাওয়ার রাস্তায়। রাস্তায় হাঁটু পানি জমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী। রাস্তায় পানি জমে থাকায় বেশি বিপদে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী যাত্রীরা। পানির কারণে রাস্তায় নষ্ট হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় বেশ কয়েকটি প্রাইভেট কার ও সিএনজি। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল ৯টা থেকে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকায় ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে টাঙ্গাইলে ১০৭ মিলিমিটার। কারওয়ান বাজার এলাকার বেশ কিছু জায়গায় পানি জমে থাকতে দেখা যায়। ওয়াসা ভবনের সামনে খুঁড়ে রাখার কারণে কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে যায় এলাকা। এদিকে যেযসব এলাকায় রাস্তা খুঁড়ে মাটি উপরে রাখা হয়েছে, বৃষ্টির কারণে সেসব ময়লা আবর্জনায় বন্ধ হয়ে গেছে গর্ত। এখন এসব গর্ত দুর্ঘটনার ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তা ডুবে থাকায় বুঝতে না পেরে এসব গর্তে আটকা পড়ছে রিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার এমনকি বাসও। ফলে প্রায়শই দুর্ঘটনায় পড়ছেন নগরবাসী। এদিকে পানি নিষ্কাশনে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিলেও বর্ষার আগেই জলজট নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় বাড্ডা-কুড়িল পর্যন্ত রাস্তা কেটে বসানো হচ্ছে পয়ঃনিষ্কাশন নালা। রিং বসানো শেষে বালু দিয়ে গর্ত ভরাট করা হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে পিচ ঢালাই না হওয়ায় দু-তিন ইঞ্চি নিচু হয়ে গেছে মূল রাস্তা থেকে। দিনের সব সময়ই যানজট লেগে থাকে এই রাস্তায়। এদিকে বৃষ্টির কারণে ফ্লাইওভারের দুই প্রান্তে জমে থাকছে পানি। এতে করে দুর্ঘটনার প্রবণতা আরও বাড়ছে। সরেজমিন দেখা যায়, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে ওঠার মুখে থৈথৈ করছে পানি। একই অবস্থা মিরপুর-এয়ারপোর্ট ফ্লাইওভারেরও। পানিতে ডুবে থাকে হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুর সামনের রাস্তা। বর্তমানে রাজধানীতে চালু ফ্লাইওভার-ওভারপাস নয়টি। সবকটি ফ্লাইওভারেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল। শুধু প্রবেশ মুখে নয়, ফ্লাইওভারের ওপরেও জমছে পানি। রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মোড় থেকে বাসাবো যাওয়ার লুপের কয়েকটি পয়েন্টে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। পানি জমে থাকছে মহাখালী ফ্লাইওভারের মুখগুলোতেও। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের দুই প্রান্তেও একই চিত্র। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জানান, শান্তিনগর এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বিশেষ কার্যক্রম হিসেবে ৯ দশমিক ২৭২ কিলোমিটার রাস্তা, ১১ দশমিক ৭২ কিলোমিটার ড্রেন ও ১১ দশমিক ৪০২ কিলোমিটার ফুটপাথ উন্নয়নের কাজ করা হয়েছে। এলাকায় এখন জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে। রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনের মূল দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। পানি অপসারণের দায়িত্বও ওয়াসার। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল সার্কেল) শরীফ উদ্দীন জানান, খিলক্ষেত এলাকায় বর্ষা শুধু নয় শুষ্ক মৌসুমেও সৃষ্টি হতো জলজট। এ সমস্যা নিরসনে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে খিলক্ষেত প্রধান সড়কের পাশে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ কিলোমিটার নর্দমা তৈরি করা হয়েছে। এই নর্দমার সাহায্যে বৃষ্টির পানি সরাসরি পূর্বদিকের খালে চলে যাবে। এ ছাড়া মিরপুরের বেশ কিছু এলাকা, উত্তরা, প্রগতি সরণি, গুলশান, বনানী এলাকায় নর্দমা নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, খাল-বিল দখল দূষণে বন্ধ থাকায় ড্রেন দিয়ে পানি নামতে পারছে না। এ জন্য ওয়াসা কাজ করছে।