মেধাবী নুসরাতের স্বপ্ন কি নিভে যাবে?

স্টাফ রিপোর্টার | বৃহস্পতিবার, মে ২৪, ২০১৮
মেধাবী নুসরাতের স্বপ্ন কি নিভে যাবে?
অটোচালক বাবা মারা গেছেন বছর ছয়েক আগে। চার ভাই বোনের মধ্যে তার বড় ভাই অনেক আগেই নিখোঁজ হয়েছেন। এরপর থেকে মা সংসারটি চালিয়ে নিচ্ছিলেন। একমাত্র মা মমতাজ বেওয়াও এখন অসুস্থ।  প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী। নেই কোন জমি-জমা। এমনকী মাথা গোজার মত ঠাঁই টুকুও নেই তাদের। অন্যের বাড়িতে আশ্রিত থেকে এমন শত কষ্ট ও দারিদ্রতাকে হার মানিয়েছেন নাটোরের সিংড়ার মেধাবী ছাত্রী নুসরাত হাসান। তিনি এবার সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-ফাইভ পেয়েছেন।

বড় হয়ে টিভি সাংবাদিক হতে চান নুসরাত। কিন্তু কীভাবে তার স্বপ্ন পূরণ হবে তা নিয়ে দিশেহারা নুসরাত হাসান। চোখে মুখে এখন হতাশার ছাপ।

নুসরাত হাসান জানায়, ছোট বেলা থেকেই অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করছি। প্রাথমিক সমাপনী ও জেএসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-ফাইভ পেয়েছি। ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া করে টিভি সাংবাদিক হবো। হঠাৎ মায়ের অসুস্থতায় তার সেই আশা ভেঙে যেতে বসেছে। তার আকুতি লেখাপড়া চালাতে সহযোগিতা করার কি কেউ নেই!

অসুস্থ মা মমতাজ বেওয়া জানান, নুসরাতের বাবা মেহেদী হাসান নাটোর লাল বাজারের একজন অটোচালক ছিলেন। তার মৃত্যুর পর সিংড়ার সরকার পাড়া মহল্লায় এসে একটি টিনের বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন তারা। ঠিকমত তিনবেলা খাবার জোটেনা তাদের। অভাবের কারণে নুসরাতকে তাদের এক নিকট আত্মীয়ের বাসায় আশ্রিত থেকে পড়ালেখা করতে হয়েছে। আর এখন তিনি নিজেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ডান হাত ও ডান পা প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী। মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তিনি সরকার ও সমাজের বৃত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন।

সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু জানান, নুসরাত হাসান ছাত্রী হিসেবে অনেক মেধাবী। এতিম ও হৃতদরিদ্র হওয়ায় আমরা বিভিন্ন ভাবে তাকে সহযোগিতা করেছি। সেও অনেক শ্রম দিয়েছে, যার ফলে ভালো রেজাল্ট করতে সক্ষম হয়েছে।