গাইবান্ধায় মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে বলায় ধর্ষণ মামলা

ফরহাদ আকন্দ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : | শুক্রবার, মে ২৫, ২০১৮
গাইবান্ধায় মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে বলায় ধর্ষণ মামলা

মাদকের ব্যবসা বন্ধ করতে বলায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের উত্তর গিদারী গ্রামের আলী আকবর খন্দকার ও অভি শেখ নামের দুইজনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাই ধর্ষণ চেষ্টা মামলাটি খারিজ করে দিয়ে মাদক ব্যবসায়ি কামাল হোসেনকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মানুষ।

সরেজমিনে জানা গেছে, উত্তর গিদারী প্রধানের বাজার গ্রামের জয়নাল মিয়া, স্ত্রী ঠান্ডা রানী ও ছেলে কামাল হোসেন দীর্ঘদিন থেকে গাঁজা ও ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। অনেক দিন থেকে কামাল হোসেনকে এলাকায় মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করে আসছিলেন আলী আকবর খন্দকার। পরে গত মাসের মাঝামাঝির দিকে এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধে স্থানীয় আরও কয়েকজন গন্যমান্য ব্যক্তির সাথে এ বিষয়ে কথা বললে ক্ষিপ্ত হয়ে যান কামাল হোসেন। এ ঘটনায় ২৯ এপ্রিল কামাল হোসেন আলী আকবর খন্দকারকে মারধরের ভয়ভীতি দেখান ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

পরদিন আলী আকবর খন্দকার গাইবান্ধা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। এ ঘটনায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে কামাল হোসেন বিধবা বোন কামিনী বেগমকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি এজাহার দেন। পরে সে এজাহারের ভিত্তিতে তদন্তে গিয়ে বাদীর অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায়নি সদর থানার পুলিশ। যার ফলে এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়নি। এরই জের ধরে কামাল হোসেনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা গত ৩ মে আলী আকবর খন্দকারকে বেদম মারধর করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।

এ ঘটনার পরদিন আলী আকবর খন্দকারের বড় ভাই একরামুল হক খন্দকার কামাল হোসেনসহ সাতজনকে আসামী করে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ধর্ষণ চেষ্টা মামলা থানায় দায়ের না হওয়ায় এক সপ্তাহ আগে গাইবান্ধা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে (১) গিয়ে মামলা দায়ের করেন কামিনী বেগম। এ দিকে ২২ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত বৃহস্পতিবার বাড়ী ফেরেন আলী আকবর খন্দকার।

স্থানীয়রা জানান, ঠান্ডা রানীর নামে ২০১২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকার তেজগাঁও থানায় মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও কামাল হোসেনের নামে গাইবান্ধা সদর থানায় ৫টি মাদকের মামলা রয়েছে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামেও মাদকের মামলা রয়েছে। কামাল হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মোখলেছুর রহমান মিন্টু বলেন, কামাল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন থেকে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। আলী আকবর খন্দকার এই মাদকের ব্যবসা বন্ধ করতে বলায় তাকে মারধর ও সাজানো মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দেওয়া হয়েছে।