চাঁদা না দেয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের করে দিলেন

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ | বুধবার, মে ৩০, ২০১৮
 চাঁদা না দেয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের করে দিলেন


মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আওলাদ মাদবর (৪০) নামে এক ইউপি সদস্যকে চাঁদা না দেয়ায় বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লতব্দী ইউনিয়নের প্রভাবশালী চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোঃ আওলাদ মাদবর উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও দোসরপাড়া গ্রামের মৃত রমজান আলী মাদবরের ছেলে।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য আওলাদ মাদবর জানান, আমি জণগনের ভোটে  নির্বাচিত হয়েছি জণগণের স্বার্থে উন্নয়ন মূলক কাজ করার জন্যে। নির্বাচিত হওয়ার পর অদ্য পর্যন্ত ৪০ দিনের কর্মসূচির একটা কাজই আমাকে দিয়েছে সোহরাব চেয়রাম্যান। তার স্বার্থে লতব্দী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের উন্নয়ন মূলক বাকী যত কাজ ছিল সব কাজই বিএনপি জামায়েতের লোকদের দিয়ে করিয়েছেন তিনি। আমার ওয়ার্ডের ৪০ দিনের কর্মসূচির এই কাজটিতে ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে স্থানীয় সরকার। ৮০ হাজার টাকা ভ্যাট বাবদ কাটা গেছে। ওই কাজটি আমাকে দেওয়ার পর সোহরাব চেয়ারম্যান আমার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। কাজের কমিটিও তার লোক দিয়ে তৈরি করে দিয়েছিলেন। তাদেরকেও দিতে হয়েছে ২৫ হাজার টাকা।

তিনি আরো বলেন, সর্বশেষ আমার কাছে ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা রয়েছে তা দিয়ে কাজটি সম্পূর্ণ করতে পারিনি। আমার নিজের পকেট থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে কাজটি সম্পূর্ণ করেছি। তার পরও গতকাল সোমবার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট ঘোষনার সময় সবার সামনে আমার কাছে সোহরাব চেয়ারম্যান চাঁদা বাবদ আরও ১ লক্ষ টাকা চেয়েছেন।

ইউপি সদস্য আরো বলেন, আমি দিতে অস্বীকার করলে সে রেগে গিয়ে আমাকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের করে দেন। আমি পরিষদ থেকে বের হয়ে আসার পরও প্রতি মুহূর্তে শুনতে হচ্ছে হুমকি ধমকি। যদি আমি তার কথা মত না চলি তাহলে সে আমাকে ক্রসফায়ারে দিয়ে মেরে ফেলবে। আমার জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই আমি আওয়ামীলীগের সাথে যুক্ত আছি এবং আমার আওয়ামীলীগে পদ পদবীও রয়েছে।

আওলাদ মাদবর আরো বলেন, আজ আমি সিরাজদিখা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব চেয়ারম্যানের কাছে নির্যাতিত। লতব্দী ইউনিয়নের এমন কোন কাজ নেই যাতে তিনি চাঁদা নেন না। তার কাছে যদি কোন অসহায় লোক বিচার চাইতে যায় তিনি বিপরীত পক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিচার সালিশ ভঙ্গ করে দিয়ে ফয়দা লুটছেন এরকম শতশত প্রমান আছে।

এরকম লোক যদি আওয়ামীলীগের মত শক্তিশালী একটি দলের উপজেলার সাধারণ সম্পাদক হয় তাহলে ভবিষ্যতে সিরাজদিখান উপজেলাবাসীর কপালে দুঃখ ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। সে দলীয় লোকজনদেরকে বিভিন্ন কৌশলে নির্যাতন করে আর বিএনপি জামায়েতের লোকজনদের তার স্বার্থে নেতা বানায় এবং কাজও দেয়। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

এ বিষয়ে লতব্দী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এস.এম সোহরাব হোসেন জানান, মেম্বারদের মধ্যে ২জন মাদকাসক্ত একজন আওয়ালাদ হোসেন অপরজনের নাম না বলে বাজেট ঘোষণার দিন অনুপস্থিত ছিল বলে জানান। পরে নাতিন জামাই বলে সম্বোধন করেছেন। এই দুইজন বেশীর ভাগ সময় ইউনিয়ন পরিষদে আসেন না। আওলাদ হোসেন বাজেটের দিন আমার কাছে ১৫হাজার টাকা পাবে বলে দাবী করেছে। বাজেটের দিন সেই টাকার কথা ভরা মজলিসে বলায় তাকে শাসন করা হয়েছে। তাকে পরিষদ থেকে কেউ বের করে দেয়নি। সে নিজেই চলে এসেছে।

আমার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে আওলাদ হোসেন অনেক কিছু লিখছে তাতে আমার কিছু আসে যায় না।

চেয়ারম্যান এস.এম. সোহরাব হোসেন আরো বলেন, সে যে ভ্যাট ট্যাক্সের কাথা বলছে এই কাজের জন্য কোন ভ্যাট ট্যাক্স দিতে হয় না। সে কোথায় কিভাবে? কার কাছে ভ্যাট ট্যাক্স দিছে? তিনি আরো বলেন, জামায়াতের লোক দিয়ে কোন কাজ করানো হয় না।