মোমবাতি জ্বালিয়ে সাংবাদিকের পায়ুপথে ছ্যাকা পুলিশের

অনলাইন ডেস্ক | | শনিবার, জুন ২, ২০১৮
মোমবাতি জ্বালিয়ে সাংবাদিকের পায়ুপথে ছ্যাকা পুলিশের

হবিগঞ্জে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি চ্যানেলের সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম জীবনকে রাতভর বেধড়ক মারপিটের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। মোমবাতি জ্বালিয়ে তার পায়ুপথে ছ্যাকা দিয়ে ১০ পিস ইয়াবাসহ আদালতে পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকালে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা। তবে আটকের কথা স্বীকার করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

সিরাজুল ইসলাম জীবনের বোন পারভীন আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দরজায় গিয়ে ধাক্কা দেয় পুলিশ। এ সময় ভেতরে থাকা জীবনের ছোটভাই আজিজুল ইসলাম দোকানের সাঁটার খুলে দেন। পুলিশ ভেতরে ঢুকেই তাদের হাতে থাকা একটি প্যাকেট দেখিয়ে মাদকসেবী হিসেবে তাকে আটক করে। খবর পেয়ে পাশের বাসা থেকে জীবনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করলে তাদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তাদেরকে লাঠিপেটা করে পুলিশ। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে আসে। এরপর রাতভর চোখ বেঁধে এসআই রকিবুলের নেতৃত্বে তার দুই ভাইকে বেধড়ক মারপিট করা হয় বলে অভিযোগ করেন পারভীন।


আদালত প্রাঙ্গণে জীবন জানান, তাদের চোখ বেঁধে একনাগাড়ে মারধর করা হয়েছে। এক পর্যায়ে পায়খানার রাস্তায় মোমবাতি দিয়ে ছ্যাকা দেয়। এক পর্যায়ে পায়ুপথে মোমবাতির জ্বলন্ত গলিত পদার্থ ঢুকিয়ে দেয়া হয়। পরে তাকে সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। সেখানে তার আঘাতের কারণ লেখা হয় গণপিটুনি।

নির্যাতনের শিকার সিরাজুল ইসলাম জীবন আদালত প্রাঙ্গণে বলেন, সদর থানার পুলিশ কোনো কারণ ছাড়া তাকে ও তার ভাইকে আটক করে থানায় নিয়ে রাতভর নির্যাতন করে।

তবে পুলিশের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তারা ওই দোকানে অভিযান চালিয়েছিল। সেখান থেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ আজিজুলকে গ্রেপ্তার করা হলে জীবন তাতে বাধা দেন। রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন তারা।

এদিকে, এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুপুর আড়াইটায় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে জরুরি বৈঠকে বসেন সাংবাদিকরা। এ সময় তারা অবিলম্বে জীবনের মুক্তি এবং এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দাবি করেন। পরে বিকালে সদর মডেল থানার সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সাংবাদিকরা।