দালাল চক্রের দু’গ্রুপে মারামারি ॥ আহত-১

মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী | সোমবার, জুন ৪, ২০১৮
দালাল চক্রের দু’গ্রুপে মারামারি ॥ আহত-১

টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার সরকারি হাসপাতালে গতকাল রাতে দালাল চক্রের দু’গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পলাশ (২৮) নামে এক দালাল আহত হয়েছে। এঘটনায় টঙ্গী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

জানা যায়, স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে দালাল চক্রের একটি গ্রুপের প্রধান শাহিন অপর চক্রের সদস্যদের হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এঘটনার পর দালাল চক্রের অপর গ্রুপের সদস্য মেহেদী, পলাশ হাসপাতালে প্রবেশ করলে দালাল শাহিন ও মেরাজ চত্বরে পাকিং করা তাদের প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স থেকে লাঠি বের করে পলাশকে বেধড়ক মারধর করে আহত করে। পওে সে উপরোক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা

নেয়। এসব দালালরা হাসপাতালের ইমারজেন্সি বিভাগের কতিপয় কর্মচারী এবং কর্তব্যরত ডাক্তারদের ব্যক্তিগত পিয়নদের সহযোগীতায় এবং তাদের সংস্পর্ষে বহিরাগত মাদক সেবী ও ব্যবসায়ী, চোর চক্রের সদস্যদের আনাগোনা ও রাতের আধারে ভাসমান পতিতাদের নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চলানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব বিষয়সহ হাসপাতাল অভ্যন্তরে মাদক সেবন ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুটি দালাল গ্রুপের মধ্যে গত ১৬ সেপ্টেম্বও ২০১৮ মারামারির ঘটনা ঘটে। এছাড়া ২৪ মে হাসপাতালের ভিতর থেকে আনোয়ার হোসেন (৩৮) নামে এক রোগীর মোবাইল কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়াও ইমারজেন্সি বিভাগের কতিপয় কর্মচারী এবং কর্তব্যরত ডাক্তারদের ব্যক্তিগত পিয়নরা হাসপাতালে কোন রোগী এলে তাদের কে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসাপাতালের দালাল ধরিয়ে দেয়া কিংবা রোগীদের কাছ থেকে চিকিৎসা সেবা প্রদানের অজুহাতে টাকা আদায় করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এসব দালালদের বিরুদ্ধে জরুরী ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় একাধিক লোকজন জানান, হাসপাতালের ইমারজেন্সি বিভাগের কতিপয় কর্মচারী এবং কর্তব্যরত ডাক্তারদের ব্যক্তিগত পিয়ন আর দালাল গ্রুপদের আধিপত্ত্য এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে, যে কোন সময় হাসপাতাল অভ্যন্তরে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তারা আরো জানায়, এসব দালাল ও হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীরা স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ভয় দেখিয়ে হাসপাতালে রোগী থেকে শুরু করে ভালো ভালো ডাক্তার, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সাথেও দূব্যবহার করে থাকে অনেক সময়। এছাড়া গত ৩/৪ বছর আগেও যে সব কর্মচারীরা অন্যের কাছ থেকে চেয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবন চালাতো তারা আজ গাড়ী-বাড়িসহ অগাধ টাকার মালিক বনে গেছে। তাদের চালচলন ভাবসাব দেখলে মনে হয় না তারা হাসপাতালের দালাল বা চতুর্থ শ্রেনীর শ্রমিক-কর্মচারী।   

 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন জানান, রাতে হাসপাতালের চত্ত্বরে বহিরাগতদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। হাসপাতাল গেটে কোন নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় ছিনতাইকারী, মাদকসেবী, টোকাই ও দালালদের আনাগোনা লেগেই থাকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ডাক্তার ও নার্স জানান, হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কতিপয় অসাধু ডাক্তার, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের যোগসাজশে ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে সন্ত্রাসী ও পেশীশক্তির ভয় দেখিয়ে দালালচক্র ফায়দা লুটছে।

এব্যাপারে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. মো. পারভেজ হোসেন জানান, এসব বিষয়ে থানা প্রশাসনকে জানিয়েছি। বহিরাগত ও দালালদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। হাসপাতালের কোন ডা., কর্মকর্তা, কর্মচারী এসব ঘটনায় জড়িত থানার প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এবিষয়ে টঙ্গী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এব্যাপারে অভিযোগ হয়েছে। হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিবো।