ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল কেন করবেন?

অনলাইন ডেস্ক | বুধবার, জুন ৬, ২০১৮
ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল কেন করবেন?

ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা মানে শুধু ফ্রেশ হওয়া নয়। এর রয়েছে নানা উপকারি দিকও। ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা শরীরের জন্য কী কী সুফল বয়ে নিয়ে আসে তা জানিয়েছে কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউজ।

১. পেশীর ক্ষমতা বাড়ায়

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে পেশীর ক্ষমতা তো বাড়েই, সেই সঙ্গে যে শরীরের ব্যথাও কমে। এই কারণেই তো শরীরচর্চার পর এবং আঘাত পেতে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসলের পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

প্রতিদিন পুকুরে গোসল করলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা খুব শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে নানাবিধ সংক্রমণের মাত্রা কমে যায়।

৩. ওজন কমে

আমাদের শরীরে দুই ধরনের ফ্যাট থাকে। একটি হলো ব্রাউন ফ্যাট, যা শরীরকে গরম রাখতে সাহায্য করে। আর আরেকটি হলো হোয়াইট ফ্যাট, যা শরীরের জন্য একেবারেই ভালো নয়। এই দ্বিতীয় ধরনের চর্বি গলানোর কথাই চিকিৎসকেরা সব সময় বলে থাকেন। 

৪. প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়ে

শরীর, ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে আসা মাত্রই লিম্প ভেসেলগুলি সংকুচিত হতে শুরু করে। ফলে পুরো শরীরে রক্ত প্রবাহ বেড়ে যায়। এমনটা যখনই হয়, তখনই প্রতিটি অঙ্গে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছে যাওয়ার কারণে সার্বিকভাবে দেহের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে।

৫. শরীর থেকে টক্সিক উপাদান বেরিয়ে যায়

ঠান্ডা পানি দিয়ে সকাল সকাল গোসল করলে শরীর থেকে বেশ কিছু ক্ষতিকর অ্যাসিড বেরিয়ে যায়। ফলে পেশিতে কোনো আঘাত থাকলে তা দ্রুত সেরে উঠতে শুরু করে।

৬. শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়ে

ঠান্ডা পানি দিয়ে করার সময় আমাদের শরীর থেকে এন্ডোরফিন এবং নোরাড্রেনালিন নামে দুটি ক্যামিকেলের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই দুটি কেমিকেল শরীর থেকে যত বেরিয়ে যেতে থাকে, তত আমাদের ক্লান্তি দূর হয়। সেই সঙ্গে শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে

৭. চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়

সকাল সকাল ঠান্ডা পানিতে করলে ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। আসলে ত্বক এবং চুলের ভেতরে থাকা প্রকৃতিক তেল যাতে বেশি মাত্রায় ক্ষরণ না হয়, তা খেয়াল রাখে ঠান্ডা পানি। ফলে ত্বক কিংবা চুল শুষ্ক হয় না।

৮. মানসিক বিষণ্নতা দূর করে

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে ভোরে ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে আমাদের শরীরে বেশ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা মানসিক অবসাদ এবং স্ট্রেসকে নিমেষে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চলে আসে।