রাজশাহীতে লিটনের মেয়ের নেতৃত্বে প্রচারে ছাত্রলীগ

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, জুন ৭, ২০১৮
রাজশাহীতে লিটনের মেয়ের নেতৃত্বে প্রচারে ছাত্রলীগ

ঘোষণা হয়েছে ভোটের তারিখ। তবে আনুষ্ঠানিকতায় এখনও ঢের দেরি। কিন্তু প্রার্থী কে ঘোষণা হয়েছে তারও আগে, তাই তার পক্ষে কর্মী সমর্থকরা নেমে গেছেন জনসংযোগে।

আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট হবে। এর মধ্যে রাজশাহীতে এরই মধ্যে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তাই কর্মী সমর্থকরা জেনে গেছেন কার হয়ে লড়তে হবে।

রাজশাহীতে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি চুপচাপ বসে। তবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের তৎপরতা দৃশ্যমান। এর মধ্যে ভাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আরও এগিয়ে। লিটনের নৌকা প্রতীকের বার্তা নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন নেতা-কর্মীরা।

আর এই জনসংযোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন লিটনের মেয়ে আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা। তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি।

সদ্য এমবিবিএস পাস করা অর্ণা পেশায় মনোযোগী না হয়ে মন দিয়েছেন রাজনীতিতে। তিনি বলছেন, ‘সবটুকুই রাজশাহীর মানুষের স্বার্থে। রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য সিটি মেয়র হিসেবে বাবাকে খুব প্রয়োজন। তাই অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি।’

গত ২৯ মে রাজশাহীসহ তিন সিটি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। এই তফসিল কার্যকর হবে ১৩ জুন। ২৪ জুন মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ জুলাই। আর আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে প্রতীক বরাদ্দের পর।

তবে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভা করে মেয়র নির্বাচনে লিটনকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

মূলত এরপর থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ভোটের মাঠে নেমে পড়েন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তবে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার পর আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তারা।

নৌকার পক্ষে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে রাজশাহী। প্রতিদিন দুটি করে ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চলছে লিফলেট বিতরণ। তারা তুলে ধরছেন আওয়ামী লীগ সরকারের নানা উন্নয়নের চিত্র।


মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘প্রচারণা করতে গিয়ে আমরা দেখেছি, মানুষ এখন খায়রুজ্জামান লিটনের অভাব বুঝতে পেরেছেন। তারা আগের ভুল আর করতে চায় না। ভোটারদের এমন মনোভাব দেখে আমরাও উজ্জীবিত।’

‘প্রতিদিন দুটি করে ওয়ার্ডে গণসংযোগ করছি, লিফলেট বিতরণ করছি। রাত জেগে নগরজুড়ে পোস্টার লাগাচ্ছি।’

লিটন কন্যা অর্ণা জামান বলেন, ‘বাবা রাজশাহীর মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন। এ অঞ্চলের উন্নয়নে তার মহাপরিকল্পনা রয়েছে। তিনি মেয়র থাকাকালে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন শহর গড়ে তোলেন। কিন্তু গত পাঁচ বছরে সেই অগ্রগতি থেকে রাজশাহী পিছিয়ে পড়েছে। তাই মেয়র হিসেবে বাবাকেই দরকার। আর এই বিষয়টি নগরবাসীকে বুঝাতেই নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে নেমেছি।

বিএনপি-জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে লিটনই ২০০৮ সালে জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। ওই বছরের মেয়র নির্বাচনে তিনি বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে হারান। ১৯৭৫ সলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর এই প্রথম দলের কোনো নেতা সেখান থেকে ভোটে জেতেন।

পরে ওই বছরের জাতীয় নির্বাচনেও রাজশাহী সদর আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের প্রার্থী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা জিতেন।

পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে লিটন রাজশাহীতে উন্নয়ন করেন দৃশ্যমান। তবে ২০১৩ সালে তিনি বিএনপির বুলবুলের কাছে হেরে যান বেশ বড় ভোটের ব্যবধানে।