প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ রাজশাহী অঞ্চলে বিনিয়োগে সম্ভাবনার দ্বার খুলছে

রাজশাহী প্রতিনিধি: | সোমবার, জুন ১১, ২০১৮



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ রাজশাহী অঞ্চলে বিনিয়োগে সম্ভাবনার দ্বার খুলছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ রাজশাহী অঞ্চলে বিনিয়োগে অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। এই অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার ইকোনমিক হাব গড়ে তুলছে। এরই মধ্যে বুলনপুরে বঙ্গবন্ধু সিলিকন ভ্যালি, নাটোর সিংড়ায় হাইটেক পার্ক ও ইনকিউবেশন সেন্টার গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারের জন্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজও।

বিনিয়োগ বিকাশের জন্য রাজশাহী বিসিক শিল্পনগরীকে সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওই শিল্পনগরীর পাশেই কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক জোন প্রকল্পও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারি উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছে নর্দান পাওয়ার প্লান্ট। কার্যক্রম চলছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের।

এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে পাটজাত দ্রব্য তৈরি, কোল্ডস্টোরেজ স্থাপন, রাইস ব্র্যান ওয়েল মিল, টাইলস, সিরামিকস, গ্লাস ফ্যাক্টরি, পেপার মিল, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, হোটেল-মোটেলের ব্যবসা, পোল্ট্রি ফিড, অটো রাইস মিল ইত্যাদি স্থাপন করা হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু সিলিকন ভ্যালি স্থাপনের জন্য রাজশাহী মহানগরীর বুলনপুর এলাকায় প্রায় ৩২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক দেবে ৪৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ২০২১ সাল নাগাদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এর নির্মাণ কাজ। নির্মাণ কাজ শেষ হলে প্রায় ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে এই সিলিকন সিটিতে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্কের প্রকল্প পরিচালক একেএম ফজলুল হক জানান, প্রকল্পের ভূমি উন্নয়নের কাজের ৭৫ শতাংশের মতো সম্পন্ন হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৭৫২ বস্তিবাসী পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। সেখানে আইটি বিষয়ে আগ্রহীদের প্রশিক্ষণের জন্য ইনকিউবেশন সেন্টারও স্থাপন করা হচ্ছে।

নাটোরের সিংড়ায় সাড়ে ৫ একর জায়গার ওপর হাইটেক পার্ক ও শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে। এই ইনকিউবেশন সেন্টার থেকে প্রায় দুই হাজার লোকের আইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব হবে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯২ কোটি টাকা। ২০১৯-২০২০ সাল নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। সেভেন আইটি প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক গৌরী শঙ্কর জানান, আগামী বছর এ প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

রাজধানী ঢাকার পর এবার রাজশাহীতে একটি নভোথিয়েটার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২২২ কোটি ৩ লাখ টাকার এ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি। নভোথিয়েটারটি নির্মিত হবে মহানগরীর শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে।

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণ লক্ষ্যে অবকাঠামোর নির্মাণের কাজ শুরু করেছে গণপূর্ত অধিদফতর।

রাজশাহী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে এই নগরীর সপুরায় ৯৬ দশমিক ৬৩ একর জমির উপর একটি শিল্পনগরী স্থাপন করা হয়। সেটাকে বাড়িয়ে বর্তমান সরকার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিনিয়োগ বিকাশের জন্য রাজশাহীর পবায় একটি সম্প্রসারিত শিল্পনগরী স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রায় ৫০ একর জমির উপর এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এতে ২৫০টি শিল্পকারখানা স্থাপন করা যাবে।

এছাড়া মহানগরীর তালাইমারীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্কয়ার নির্মিত হবে। এই স্কয়ার নির্মিত হলে এ অঞ্চলের সংস্কৃতি উন্নত এবং চর্চা করতে বিনিয়োগ বাড়বে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। রাজশাহী বঙ্গবন্ধু স্কয়ার প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। এ প্রকল্পে থাকছে তিনতলা বিশিষ্ট ৬৩৮৭ দশমিক ৬৭ বর্গকিলোমিটারের স্কয়ার, বেজমেন্ট পার্কিং, এম্পিথিয়েটার, জলধারা বেষ্টিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, গ্রাউন্ড ফ্লোরে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম, লাইটিং এবং ডিজিটাল স্ক্রিন সংবলিত স্থায়ী আর্টগ্যালারি ও মিউজিয়াম। এছাড়াও থাকছে আধুনিক রেস্টুরেন্ট এবং উন্মুক্ত স্থানে বসার ও বিনোদনের ব্যবস্থা।

রাজশাহীর কাটাখালিতে নির্মিত নর্দান পাওয়ার সল্যুউশনের বিদ্যুৎ প্লান্টে রয়েছে ছয়টি ইউনিট। ছয়টি ইউনিট এক সঙ্গে চালু থাকলে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালিতে নর্দান পাওয়ার সল্যুউশনের ৫০ মেগাওয়াট কুইক রেন্টাল পাওয়ার স্টেশন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ স্টেশনের টেস্ট উদ্বোধন করেন। তারপর থেকেই ওই স্টেশন থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। সেখানে থেকে উৎপাদিত ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিভাগীয় পরিচালক আতাউল গণি বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগে সরকারি উদ্যোগে বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রধানত আইসিটি খাতে। বেসরকারি উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করা হচ্ছে যাতে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের বিকাশ ঘটে। তবে এলএনজি গ্যাস আমদানি করা হলে এ অঞ্চলের গ্যাস সংকট কাটবে, তখন শিল্প-কারখানায় গ্যাস দেয়া সম্ভব হলে বিনিয়োগও বাড়বে।

বছরের পর বছর লোকসান থেকে বেরিয়ে আসতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের (বিটিএমসি) ১৩টি মিল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

‘রাজশাহী টেক্সটাইল মিল, রাজশাহী’- এর নাম পরিবর্তন করে ‘ডেভেলপমেন্ট রাজশাহী টেক্সটাইল মিল অ্যাট সপুরা, রাজশাহী’ নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। এ মিলে জমির পরিমাণ ২৬.৫৩ একর; যার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৭৩ কোটি টাকা।
বাংলাদেশে চামড়াজাত শিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় আয়োজন ‘লেদারটেক বাংলাদেশ-২০১৭’ উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে নতুন দুইটি চামড়া অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।