লক্ষ্মীপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, জুন ১৮, ২০১৮

লক্ষ্মীপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরে যৌতুকের টাকা না পাওয়ায় কামরুন নাহার নিশি নামে এক গৃহবধূকে গলায় রশি পেচিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর হাসপাতালে লাশ রেখেই স্বামী মেহেরাব হোসেন শুভ ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে যান। ময়নাতদন্ত শেষে আজ সোমবার সকালে নিহতের পরিবারের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়। তার গলায় রশি পেছানোর কালো চিহ্ন রয়েছে।

নিহত গৃহবধূ উপজেলার হেতিমপুর এলাকার প্রবাসী আবুল হাসনাত কাইয়ুমের মেয়ে। অভিযুক্ত মেহেরাব হোসেন শুভ লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বিসিক শিল্পনগরীর তোফায়েল আহমেদের ছেলে।

নিহতের পরিবার জানায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রেমের সম্পর্কে নিশি ও শুভ এর বিয়ে হয়। এক বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে তাদের সংসারে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছে। শনিবার দুপুরে ঈদের দিনেও গৃহবধূকে বাপের বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা এনে দিতে চাপ দেন শুভ। এতে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতন চালানোর এক পর্যায়ে গলায় রশি পেচিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তারা। নিশি গলায় রশি পেচিয়ে আত্মত্যার চেষ্টা করে বলে এলাকায় প্রচার চালায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রবিবার সকালে মারা যায় গৃহবধূ নিশি। এক পর্যায়ে হাসপাতালে গৃহবধূর লাশ রেখে পালিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় গৃহবধূর পরিবারের লোকজন।

নিহতের মা শিউলী বেগম অভিযোগ করে বলেন, যৌতুকের পাঁচ লাখ টাকা না দেওয়ায় নিশিকে হত্যার পর ফাঁসি দেওয়ার নাটোক সাজানো হয়েছে। আমরা যেন মেয়ের মরদেহ না পাই সে জন্য তার হাসপাতালে নামও পরিবর্তন করে দিয়েছে। আমার মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করছি।

এঘটনায় বক্তব্য জানতে স্বামী শুভর বাড়িতে গিয়েও কারও বক্তব্য জানা যায়নি। বাড়িঘরে তালাবদ্ধ করে তারা পলাতক রয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। হত্যা না আত্মহত্যা তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। লিখিত অভিযোগ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।