পদ্মায় বাড়ছে পানি, প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নিম্নাঞ্চলের মানুষ

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | মঙ্গলবার, জুন ১৯, ২০১৮
 পদ্মায় বাড়ছে পানি, প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নিম্নাঞ্চলের মানুষ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদ-নদীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে পদ্মা নদীর পানিও বাড়ছে প্রতিদিন। জেলা নিম্নাঞ্চলের মানুষগুলো তাই বন্যা মোকাবেলায় বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখন।

সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল ডিগ্রীরচর ও নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানকার মানুষ দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে বন্যা মোকাবেলার প্রস্তুতির কাজ সেরে নিচ্ছেন।

তাদের একজন প্রলাদ কুমার মণ্ডল। স্ত্রী আলপনা রানী মণ্ডল। তাদের এক সন্তান। প্রাইমারির গণ্ডি পেরিয়ে এখন সে শহরের একটি স্কুলে ক্লাস সিক্সএ পড়ালেখা করে। বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের সন্তানকে স্কুলে যেতে সমস্যা পড়তে হয়। কারণ বাড়ি চার পাশে পদ্মার পানিতে ঘিরে থাকে।

শহরতলীর ডিগ্রীরচর ইউনিয়নের সিএন্ডবি ঘাট এলাকার নমডাঙ্গীর প্রলাদ কুমার মণ্ডলের মতো প্রায়ই সকল পরিবারই এখন ব্যস্ত সময় পার করছে বন্যা বা পদ্মার পানি থেকে নিজে ও পরিবারকে রক্ষার কাজে। কেউ নৌকা তৈরির কাজে, কেউ ক্ষেতের ফসল ঘরে তোলার কাজে। কেউ বা বাড়ির গবাদি পশু খাবার সংগ্রহের কাজে।

জেলার নয় উপজেলার মধ্যে চারটি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যায়। এবারের পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করলে নদী পাড়ের মানুষগুলো তাই আগেভাগেই নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তাদের এলাকায় সকলকে বন্যার প্রস্তুতির নেয়ার আহবান জানিয়েছেন। ডিগ্রীরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু এ বিষয়ে জানান, ফরিদপুর সদর আসনের এমপি ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা বন্যাকবলিত এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এলাকাবাসীদের তৈরি হতে বলা দিয়েছি।


তিনি বলেন, অনেকেই মাটির তৈরি বাড়তি চুলা, চলাচলের জন্য নৌকা এমনটি গবাদি পশুর জন্য শুকনো খাবার সংগ্রহ করেছেন।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কান্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকদের আগাম প্রস্তুতি কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যা হলে করণীয় কি তা কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। 

তিনি বলেন, জেলার চরাঞ্চলের বাদাম অনেক বাদাম চাষিদের ফসল তলিয়ে গেছে। তাদের ওই ফসলটি দ্রুত ঘরে তোলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এদিকে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া জানান, এ বছর বন্যা এলে সকল ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। বলেন, ইতোমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে দিকনিদের্শনা দেয়া হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, কৃষি ও জেলার ত্রাণ কর্মকর্তাদের বন্যা প্রস্তুতি জন্য এখন থেকেই সর্তক থাকার কথা বলা হয়েছে।