প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাণী উন্নয়নের সূচকে বিশ্বের সেরা পাঁচে বাংলাদেশ: শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, জুন ২৩, ২০১৮

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাণী
উন্নয়নের সূচকে বিশ্বের সেরা পাঁচে বাংলাদেশ: শেখ হাসিনা
অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার গত সাড়ে ৯ বছরে দেশের কৃষি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্য-প্রযুক্তি, অবকাঠামা, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কূটনৈতিক সাফল্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ প্রতিটি খাতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি বাংলাদেশ। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে।

২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান বাণীতে।

বাঙালি জাতির প্রতিটি মহৎ, শুভ ও কল্যাণকর অর্জনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের আত্মপরিচয়ের সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২-এর আইয়ুবের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ৬৪-এর দাঙ্গার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, ৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানসহ সব আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতির মুক্তি ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ ভূখণ্ডে যা কিছু বিশাল অর্জন সবই আওয়ামী লীগের নেতৃতেই হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্য স্বাধীন, যুদ্ধবিধ্বস্ত  বাংলাদেশকে যখন জাতির পিতা তার স্বপ্নের সোনার বাংলায় রূপান্তরের সংগ্রামে নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তখনই ঘাতকেরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে তাকে সপরিবারে হত্যা করে। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে ৩ নভেম্বর কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে।

শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে আবারও রাষ্ট্র্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সফলভাবে রাষ্ট্র্র পরিচালনা করে। উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ সরকারই খাদ্য ঘাটতির দেশ বাংলাদেশকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অপশাসন, দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে পুনরায় বিজয় অর্জন করে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’। চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। দারিদ্র্যের হার কমে এখন ২২ শতাংশ। মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭৫২ মার্কিন ডলার। রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ৫ কোটির বেশি মানুষ নিম্নআয়ের স্তর থেকে মধ্যম আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়াদা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য পরিচালনা করছি। বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছে। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমারও শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশ যখন উন্নয়নের সোপানে এগিয়ে যাচ্ছে তখন মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির দোসররা অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। কোন অশুভ শক্তি এদেশে বিস্তার লাভ করতে পারবে না। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সফলকাম হয়েছি। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের স্থান বাংলাদেশে হবে না। আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এদেশের শান্তি প্রিয় জনগণ অতীতের মতো সব অপশক্তিকে পরাজিত করে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত করবে।’ খবর বাসস।