ঝিনাইগাতীতে একই ধান গাছ থেকে দু’বার ফলন!

জাহিদুল হক মনির,শেরপুর | রবিবার, জুন ২৪, ২০১৮

ঝিনাইগাতীতে একই ধান গাছ থেকে দু’বার ফলন!

কেটে নেয়া বোরো ধান গাছের গোড়া থেকে আবারও ধান উৎপাদন করে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কৃষকরা।
কৃষি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এই পদ্ধতিটাকে ‘রেটুন শস্য আবাদ’ বলা হয়। এটি কৃষকদের একটি বাড়তি ফসল এবং এতে কৃষকদের বিনা খরচে বাড়তি অর্থ উপার্জন সম্ভব।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ধানের মুড়ি থেকে আবার ধান চাষ করা যায়। বিশেষ করে ব্রি ধান-২৮ ও ২৯ ধানের গোড়া কাঁচা থাকে। তাই ধান কাটার পর এসব ধান গাছের মুড়ি থেকে কুশি বের হয়। আর এসব মুড়ি থেকে পুনরায় ধান উৎপাদন সম্ভব। এ পদ্ধতিতে এবার উপজেলায় ৪০হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়ছে। যার বিপরীতে ধানের উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০০ মণ।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে,  উপজেলার ভারুয়া গ্রামের কৃষক হায়দার আলী গত বোরো মৌসুমে ১একর জমিতে বি আর-২৮ ধান চাষ করেন। গত মে মাসের শুরুতে এসব ধান কেটে তিনি ঘরে তোলেন।  এরপর ওই জমিতে পড়ে থাকা ধান গাছের মুড়ি (গোড়া) নষ্ট না করে পুনরায় ধান উৎপাদন করতে যতœ নেন এবং ধান গাছের গোড়া কাঁচা থাকায় দ্রুত নতুন কুশি বের হয়। তবে কোনো প্রকার সেচ ছাড়াই শুধু মাত্র সামান্য পরিমাণে সার প্রয়োগ আর কয়েক বার কীটনাশক স্প্রে করে চাষকৃত এসব মুড়ি ধানের মাঝারি ফলন পেয়েছেন।
উপজেলার ভারুয়া গ্রামের কৃষক হায়দার আলী জানান, ‘কৃষি বিভাগের পরামর্শে সামান্য খরচ ও পরিশ্রমে একই ধান থেকে দু’বার ফলন ঘরে তোলবেন তিনি। এভাবে ধান চাষ করায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনাও হচ্ছে।’

উপজেলার নওকুচী গ্রামের গোলাপ হোসেন ম-ল, আব্দুল মজিদ ম-লসহ অনেকেই বলেন, ‘আমরা তো আগে এসব ধানের গোরা কেটে গরু ছাগলকে খাওয়াই তাম।

কিন্তু এ বছর কাটা ধান গাছের গোড়া থেকে নতুন চারার ধান দেখে অবাক হয়েছি।’ 
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘বোরো ধান কেটে নেয়ার পর পরবর্তী আমন আবাদের জন্য প্রায় ২ মাস সময় কৃষকরা পায়। আর এই দুইমাস সময়ের মধ্যে পড়ে থাকা জমিতে এই পদ্ধতিতে ধান আবাদ করে কৃষকরা বাড়তি ফসল পেতে পারে। এটি বেশী লাভজনক না হলেও যেসব কৃষক নিজে পরিশ্রম করেন তারা বাড়তি ফসল পেয়ে লাভবান হতে পারেন বলেও জানান তিনি।’