লিজা ধর্ষণ ও হত্যার রহস্যজট খোলেনি এক মাসেও

স্টাফ রিপোর্টার | মঙ্গলবার, জুলাই ৩, ২০১৮
লিজা ধর্ষণ ও হত্যার রহস্যজট খোলেনি এক মাসেও


টাঙ্গাইলের মধুপুরে ধর্ষণের পর ৫ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী লিজা হত্যার রহস্যজট গত এক মাসের বেশি সময় পার হলেও খোলাসা হয়নি। প্রভাবশালীদের প্রভাবে থানা পুলিশ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের নাম সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগে উল্লেখ করলেও আসামীদের নামের স্থানে ‘অজ্ঞাত’ লিখে ঘটনা ভিন্ন খাতে পরিচালিত করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদে কাউকে উদ্যোগী হলেই তাদেরকে হয়রানি করছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় মামলায় দোষী চিহ্নিত করতে পুলিশের উপর আস্থা রাখতে না পেরে এলাকাবাসী সঠিক বিচার দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর গণস্বাক্ষর দিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

সোমবার দুপুরে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর প্রদত্ত স্মারকলিপিতে এলাকাবাসী এ বিচার দাবি করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, অরনখোলা ইউনিয়নের গাছাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী লিজা গত ২৫ মে দুপুরে রোজা পালনরত অবস্থায় গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। ওইদিন রাত ৯টার দিকে বাড়ির পাশে বাঁশ বাগানে কলাপাতায় মোড়ানো তার লাশ পাওয়া য়ায়।

লিজার নিথর দেহ ছিল ক্ষতবিক্ষত এবং কাপড়-চোপড় ছেঁড়া ও গোপনাঙ্গ রক্তাক্ত। লিজার বাবা মিজানুর রহমান গত ২৬ মে বাদি হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করে। পরে দুইজনকে ছেড়ে দিয়ে আনোয়ার হোসেন ওরফে রানা, রাশেদ খান ওরফে রাসেল এবং আমজাদ হোসেনকে জেলহাজতে পাঠায়। বাদীর সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকা সত্বেও পুলিশ আটককৃতদের গণধর্ষণ মামলায় আসামী না করে তাদের সন্দেহজনক আসামী হিসাবে আদালতে চালান দেয়। পরবর্তীতে বাদী পক্ষের চাপাচাপির দরণ পুলিশ আদালত থেকে তাদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে নিয়ে আসেন। বাদী তথা নিহতের বাবার অভিযোগ রিমান্ডে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেলেও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে স্বীকারোক্তি আদায় না করেই জেলহাজতে পাঠায়। নিহতের পরিবার ও গ্রামবাসীর অভিযোগ লিজা ধর্ষণ ও হত্যায় এ ৩ জনই দায়ী ।

অথচ পুলিশ আসামীদের পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ পেয়ে মূল ঘটনা অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা করছেন। এলাকার কেউ নিহতের পক্ষে কথা বললেই পুলিশ তাকে নানা ভাবে হয়রানি এবং লিজা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তাদেরকে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন। সম্প্রতি আসামীদের শাস্তির দাবিতে স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও গ্রামবাসীরা জলছত্র বাজারে সমাবেশ করার উদ্যোগ নিলে পুলিশ বাধা দেয়। হুমকি ধামকিতে নানাভাবে পরিবারটি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন। নির্যাতিত পরিবারটি সুবিচারের আশায় দ্বারে-দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে জানান বেসরকারি সংস্থা “নিজেরা করি”।

এমতাবস্থায় থানা পুলিশের উপর ভরসা রাখতে পারছেনা এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার। স্মারকলিপিতে এলাকার সহ¯্রাধিক মানুষ স্বাক্ষর করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন। স্মারলিপি প্রদানের সময় বেসরকারি সংস্থার স্থানীয় কর্মকর্তা, মানবাধিকার কর্মি, এলাকার কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে মধুপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, জেলা পুলিশ প্রশাসন এ ধর্ষণ মামলাটি পিবিআই এর নিকট হস্তান্তর করেন। এখন তারা তদন্ত করবেন। থানা পুলিশ তদন্ত করে এর কূলকিনারা করতে পারেনি। কাউকে পুলিশী হয়রানী করা হয়নি বলেও তিনি জানান।