দ্রুতগামী স্পীডবোর্ডের ঢেউয়ের আঘাতে বাড়ি-ঘর নদী গর্ভে বিলীন

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার | বৃহস্পতিবার, জুলাই ৫, ২০১৮

দ্রুতগামী স্পীডবোর্ডের ঢেউয়ের আঘাতে বাড়ি-ঘর নদী গর্ভে বিলীন

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় দ্রুতগামী স্পীডবোর্ডের ঢেউয়ের আঘাতে রাস্তা-ঘাট, হাওর রক্ষা বেরী বাঁধ, বাজার সহ নদী পাড়ের ক্ষুদ্র আয়ের সাধারণ মানুষদের বাড়ি-ঘর নদী গর্ভে বিলীন হতে চলেছে ।  গতকাল বুধবার নদী পথে ঘুরে দেখা যায়, মহদীপুর থেকে মান্নান ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩০টি দ্রুতগামী স্পীডবোর্ড ১০জন থেকে ১২জন যাত্রী নিয়ে ওই নৌ-রোডে যাতায়াত করছে দিনে শতাধিকবার । এতে নদী পাড়ের বস-বাসকারী সাধারণ মানুষদের ঘর-বাড়ি, হাওর রক্ষা বেরী বাঁধ সহ বৌলাইগঞ্জ নামক একটি বাজার নদী গর্ভে বিলীন হতে চলেছে । এতে নদী পাড়ের মানুষদের মনে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে ।
জানাযায়, ২০১২ সালে তাজু মিয়া ও বারু মিয়া নামের দুই ব্যক্তি মহদীপুর থেকে মান্নান ঘাট নৌ-রোডে ৪টি দ্রুতগামী স্পীডবোড ভাড়ায় চালিত হিসেবে ব্যবহার শুরু করে । পরে মোটা অংকের টাকার উৎস দেখে স্থানীয় কিছু লোকজন পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন স্পীড বোর্ড আনা শুরু করে যার মূল্য ৪লাখ থেকে ৫লাখ টাকা।

ওই সব নদী পাড়ের মহদীপুর, গোলুয়া, দিগজান, বাবুপুরের মানুষদের সাথে কথা বলে জানাযায়, এ নৌ-রোডে যতদিন যাবৎ ওই সব স্পীডবোর্ড চলাচল শুরু করে, তখন থেকেই বাড়ি-ঘর ভাংতে ভাংতে এখন থাকার জায়গাটা পর্যন্ত নদীর দখলে চলে গেছে।
দ্রুতগামী স্পীডবোর্ড এক যাতায়াতকারীর সাথে কথা বলে জানাযায়, ২৫০/৩০০ টাকা দিয়ে মহদীপুর থেকে মান্নান ঘাট যাই শুধুমাত্র সময় বাঁচাতে । যেখানে ট্রলারের ভাড়া ৮০/১০০ টাকা, সেখানে তারা ২৫০/৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে।

স্পীডবোর্ড মালিক বারু মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান ময়মনসিংহ প্রতিদিনকে জানান আরো ৬বছর আগে আমি এবং তাজু মিয়া এক সাথে ৪টি বোর্ড দিয়ে এ রোডে যাতায়াত শুরু করি । পরে ক্রমানয়ে অনেকেই নতুন নতুন বোর্ড নিয়ে এসেছে ।
এ নৌ-পথে স্পীড বোর্ড চলাচল করতে জেলার কোন অনুমোতি, বা, ড্রাইভারদের কোন প্রশিক্ষ আছে কি-না তা জানতে চাইলে ওই বোর্ড মালিক বলেন, না, এধরনের কোন কিছুই নেই । আমরাই প্রাথমিক ভাবে ওই সব ড্রাইভারদের কিছু আইডিয়া দিয়েছি ।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও পুলক কান্তি চক্রবর্তীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ঊর্দ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।