টাঙ্গাইলে স্বামী হত্যা চেষ্টাকারী জজ কোর্টের কর্মচারী রোজিনা বরখাস্ত

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | শনিবার, জুলাই ৭, ২০১৮
টাঙ্গাইলে স্বামী হত্যা চেষ্টাকারী জজ কোর্টের কর্মচারী রোজিনা বরখাস্ত
বামী হত্যা চেষ্টাকারী ফৌজদারী মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী টাঙ্গাইল জজ কোর্টের কর্মচারী রোজিনা আক্তারকে সরকারী চাকুরীর বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ তার নামে দায়েরকৃত ফৌজদারী মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করেছেন।

জানা যায়, সম্প্রতি গোপালপুর সহকারী জজ আদালতের নাজির রোজিনা আক্তার তার ভাইদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তার স্বামী সাংবাদিক আবুল কাশেম খানকে টাঙ্গাইল সদরে তার নিজ বাড়ীতে গভীর রাতে হত্যার চেষ্টা চালায়। এই ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে আবুল কাশেম খান টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করলে তার বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগপত্র দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে টাঙ্গাইলের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন আছে। উক্ত মামলার ধার্য তারিখে মামলায় হাজিরা ও একই সাথে তার কর্মস্থলে হাজির থাকে। তার বিরুদ্ধে উক্ত মামলায় ৩২৬/৩০৭ ধারা সহ অন্যান্য ধারায় পুলিশ অভিযোগ পত্র দায়ের করেন। উপরোক্ত কারণে তাকে গত ২ জুলাই ’১৮ তারিখে চাকুরী হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আদালতের মামলা সুত্রে জানা যায়, মির্জাপুর প্রেসকাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক মোঃ আবুল কাশেম খান টাঙ্গাইল সদরে এনায়েতপুর মৌজায় নিজস্ব জমিতে বাড়ী নির্মাণ করে তার ২য় স্ত্রী রোজিনা আক্তারকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। বাড়ীটি করার পর থেকেই তার স্ত্রী রোজিনা আক্তার ও তার ভাইয়েরা উক্ত বাড়ীটি রোজিনা আক্তারের নামে জোরপুর্বক লিখে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। এতে মোঃ আবুল কাশেম রাজী না হওয়ায় গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার সময় রোজিনা আক্তার পরিকল্পিতভাবে তার ভাইদের ফোন করে কৌশলে বাসায় নিয়ে এসে মোঃ আবুল কাশেমকে ঘুমন্ত অবস্থায় হাত-পা বেধে মারপিট করিতে থাকে এবং ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে চাপ প্রয়োগ করে। এতে রাজী না হওয়ায় তাকে নির্মমভাবে পেটায় ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ঠোট কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। প্রতিবেশীরা তার গোংরানীর শব্দ শুনে এলাকার লোকজনসহ ঘরের দরজা জানালা ভেঙ্গে তাকে হাত-পা বাধা ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করে। এ সময় তার ৫ বৎসরের শিশু কন্যা কায়নাত আমিরা কান্তাকে মুখে কসপেট দেওয়া অবস্থায় রান্না ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এই ঘটনায় মোঃ আবুল কাশেম খান বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলা নং জিআর ৪২২। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার ইন্সপেক্টর তানবীর আহমেদ দঃ বিঃ ৩২৬/৩০৭ সহ অন্যান্য ধারায় রোজিনা আক্তার ও তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম, সাইফুল আলম, মা সাহেরা বেগম-এর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে চীফ জুডিঃ ম্যাজিঃ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অন্যদিকে উক্ত মামলাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য একই থানায় মোঃ আবুল কাশেম খানসহ স্থানীয় কয়েকজনকে আসামী করে রোজিনা আক্তার একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন মামলা (নং: ৪২৩) দায়ের করেন। উক্ত মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর সাদিকুর রহমান মামলার সত্যতা না পেয়ে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
উল্লেখ্য, উক্ত রোজিনা আক্তার কক্সবাজার জজকোর্টে কর্মরত অবস্থায় তার পুর্বের স্বামী আতিকুর রহমান এর বিরুদ্ধে একই ধারায় মামলা করেন। মামলা নং: জি.আর ৩০৭/২০০৩। উক্ত মামলাটি মিথ্যা প্রমানিত হলে আতিকুর রহমান মামলা থেকে অব্যহতি পান। রোজিনা আক্তার গোপালপুর সহকারী জজ আদালতে কর্মরত অবস্থায় ফৌজদারী মামলায় দঃ বিঃ ৩২৬/৩০৭ ধারাসহ অন্যান্য ধারায় অভিযুক্ত থাকা স্বত্বেও মামলার ধার্য তারিখে মামলা এবং অফিসে হাজিরা দিয়ে আসছিল। এই সব বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরে এলে সরকারী চাকুরী বিধিমালা লঙ্ঘন ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কারনে তাকে চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে তার অফিস সুত্রে জানা গেছে।

এই ঘটনায় সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার কমিশনার ও প্যানেল মেয়র মাহমুদা আক্তার জেবুসহ স্থানীরা এই মর্মান্তিক ঘটনার বিবরণ দেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। মাহমুদা আক্তার জেবু বলেন তিনি নিজে উপস্থিত থেকে ঘরের জানালা ভেঙ্গে আবুল কাশেম খানকে হাত-পা বাধা অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন এবং ৫ বৎসরের শিশু কন্যা কায়নাত আমিরা কান্তাকে মুখে কসপেট দেওয়া অবস্থায় রান্না ঘর থেকে উদ্ধার করে তার হেফাজতে নেন। ঘটনার ৬ দিন পর রোজিনা আক্তার তার কন্যাকে নিয়ে যায়। তিনি আরো জানান এলাকার লোক এগিয়ে আসলে রোজিনার ভাই জাহাঙ্গীর আলম হুমকি দিয়ে বলে এগিয়ে আসলে সবাইকে গুলি করে দিব।