পাত্রীর যে ৭টি বিষয় বিয়ের পূর্বেই জেনে নেয়া জরুরী!

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | বুধবার, জুলাই ১১, ২০১৮
পাত্রীর যে ৭টি বিষয় বিয়ের পূর্বেই জেনে নেয়া জরুরী!
বিয়ে জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও আমাদের সমাজে এখনও পাত্র-পাত্রী নির্ধারণ করে দেন পিতা-মাতা কিংবা পরিবার। কিন্তু তবুও প্রেমের বিয়ের হার কিন্তু একেবারে কমও নয়। বিয়ে প্রেমের হোক কিংবা পারিবারিক, বিয়ের পূর্বে হবু স্ত্রীর কিছু ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কেননা দীর্ঘদিন পরিচয় হবার পরেও দেখা যায় অনেক কথাই না বলা রয়ে গেছে। তাই বিয়ের পাকা কথা হবার আগেই পাত্রীকে করে নিন কিছু প্রশ্ন। তাঁকে অনুরোধ করুন জবাবগুলো সত্য দিতে। কেননা এই জবাবগুলোর ওপরে দুজনের জীবনই নির্ভর করে থাকবে।

তিনি বিয়েতে সম্মত কিনা

আমাদের সমাজে এখনও অনেক পরিবারেই মেয়েদেরকে জোর পূর্বক বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হয়। চাপে পড়ে বিয়ে তো হয়ে যায় দুটি মানুষের, কিন্তু তাতে সুখের সংসার কোনভাবেই হয় না। তাই বিয়ের পূর্বে হবু স্ত্রীকে বারবার প্রশ্ন করুন- তিনি বিয়েতে রাজি তো? আপনাকে তাঁর পছন্দ হয়েছে তো? তিনি নিজের ইচ্ছায় আপনার সাথে বিয়েতে মত দিয়েছেন তো?


তাঁর চাওয়া-পাওয়াগুলো কী

দুটি মানুষের বিয়ে মানে তাঁদের জীবন ও ভবিষ্যৎ একত্রে জড়িয়ে যাওয়া। এ কথা ভাবা খুবই ভুল একটি ধারণা যে স্বামীর ইচ্ছাতেই স্ত্রীর ইচ্ছা। স্ত্রী একজন স্বতন্ত্র মানুষ, তাঁর স্বপ্ন ও ইচ্ছা সম্পূর্ণই আলাদা। তাই বিয়ের পূর্বেই জেনে নিন জীবন থেকে তিনি কী চান এবং আপনাদের দুজনের চাওয়া ও পাওয়া মেলে কিনা।

পূর্বের প্রেম-ভালোবাসা-বিয়ে

সকলেরই বিয়ের পূর্বে সম্পর্ক থাকে। হতে পারে সেটা খুচরো প্রেম, হতে পারে গভীর ভালোবাসা, আবার হতেও পারে বিয়ে ও ডিভোর্স। ব্যাপার যাই হোক, এই ঘটনাগুলো একজন মানুষের মনে গভীর ছাপ রেখে যায়। তাই বিয়ের পূর্বেই পরস্পরের অতীত নিয়ে খোলামেলা ও বিস্তারিত আলোচনা সেরে নিন। এই ব্যাপারগুলো জানা না থাকলে দাম্পত্যে নানান রকম সমস্যা তৈরি হতেই পারে।

সন্তান গ্রহণ বিষয়ে

তিনি নারী, আর নারী মানেই সন্তান গ্রহণে ইচ্ছুক- এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। একজন নারী মা না হতে চাইতেই পারেন। আমাদের সমাজে এখনও স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির চাপে পড়ে অসময়ে সন্তান নিতে বাধ্য হয় অনেক মেয়ে। আপনি সন্তান চাইছেন মানেই স্ত্রী সন্তান ধারণ করবে- এসব ভাবনা ভাবতে যাবেন না। হবু স্ত্রীর সাথে খোলামেলা আলোচনা করে নিন যে তিনি সন্তান চান কিনা। চাইলেও কয়টি সন্তান চান? বিয়ের কত বছর পর সন্তান নিতে চান? সুন্দর আলোচনা করা থাকলে দাম্পত্যে কখনো তিক্ততা আসবে না।


কোন লুকায়িত সত্য

অনেক পরিবারেই নানান রকম লুকায়িত সত্য থাকে। অনেক মানুষের জীবনেও থাকতে পারে। তাই বিয়ের পূর্বে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করুন যে এমন কোন লুকায়িত সত্য আছে কিনা যা আপনার জানা জরুরী। যেমন- কোন অসুখ, পারিবারিক সমস্যা বা ব্যক্তিগত সমস্যা। একইভাবে নিজের কোন লুকায়িত সত্য থাকলে সেটাও তাঁকে জানান। খুব পরিষ্কার স্পষ্ট ভাষায় তাঁকে জানিয়ে দিন যে কিছু গোপন থেকে থাকলে সেটা বিয়ের পূর্বেই জানিয়ে দিতে। কেন এটা জানা জরুরী, সেটাও তাঁকে বুঝিয়ে বলুন।

দাম্পত্য টিকে থাকে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার ওপরে। দুজন মানুষ যখন একই স্বপ্ন একসাথে দেখে শুরু করেন, মূলত সেটাই হচ্ছে সুখী দাম্পত্যের সংজ্ঞা। তাই বিয়ের পূর্বেই স্ত্রীর বন্ধু হয়ে উঠুন। দাম্পত্য মধুর হয়ে উঠবে।