ডাকাতিয়া পারে নির্মিত হবে মেডিকেল কলেজ

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
ডাকাতিয়া পারে নির্মিত হবে মেডিকেল কলেজ

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ইসলামপুর গাছতলা এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে নির্মাণ করা হবে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল।

প্রায় ৩১ একর জমির ওপর এ হাসপাতাল নির্মাণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। নিয়মানুযায়ী ভুমি অধিগ্রহণসহ সকল কাজ সম্পন্ন হলে এই স্থানেই কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হবে।

এতে চাঁদপুর, শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার লাখ লাখ মানুষ সহজে স্বাস্থ্য সেবা পাবেন। নৌপথে রোগি নিয়ে আসার সুবিধা পাবেন ৪ জেলার মানুষ। সড়ক পথেও আসার সুবিধা থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁদপুরে একটি মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল নির্মাণের সম্মতি দেন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানো সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে এমপিকে দেখিয়ে বলেন, আপনাদের জনপ্রতিনিধি একজন চিকিৎসক। তিনি আমার কাছে আগেই চাঁদপুরে একটি মেডিকেল কলেজ করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কথা দিয়েছি, চাঁদপুরে মেডিকেল কলেজ করে দেবো। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা এবং কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে।  

গত ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, এডিসি রেভিউনিউ, গণপূর্ত প্রকৌশলী বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রতিনিধি দল এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং উল্লেখিত স্থান পরিদর্শন করেছেন।

 মেডিকেল কলেজের জন্য নির্ধারিত স্থান ইসলামপুর গাছতলা নদী পাড় এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের এলাকার প্রায় ৩১ একর ভূমি অধিগ্রহণের কথা তারা লোকজনের কাছে শুনে আসছেন।


কিন্তু তাদের সাথে এখন পর্যন্ত কেউ এ বিষয়ে আলোচনা করেননি। প্রায় ৩০ পরিবারের বসবাস ওই এলাকায়। এর মধ্যে দেওয়ান বাড়ির বসতঘরই বেশী। বাকী পরিবারগুলোর বসবাস বিচ্ছিন্ন।

ওই এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান পাঠান, শহীদুল ইসলাম খান জানান, আমাদের এলাকায় সরকার মেরিন একাডেমি করেছে, তখনও আমাদের অনেক পৈত্রিক ভূমি চলেগেছে। এখন আবার মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করলে বসত ভিটাও থাকবে না। এ ধরনের কাজ আমাদের মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।

অপরদিকে দেওয়ান বাড়ীতে রয়েছে প্রায় ২৫ পরিবারের বসত ঘর। তাদের মধ্যে আবুল বাশার দেওয়ান ও ওমর ফারুক দেওয়ান জানান, ২৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ করলে তাদের বসত বাড়ীর সমস্যা হবে না। তবে এর বেশী অধিগ্রহণ করলে তাদের বসতবাড়ী ছাড়তে হবে। এ বিষয়ে তারা সরকারের সদয় দৃষ্টি কামনা করেন।

 এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ জামাল হোসেন জানান, আমাদের মনে রাখতে হবে যে এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির একটি প্রকল্প। তাই আমাদের সকলের বিশেষ নজরে এনে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে বর্তমানে নির্ধারণ করা স্থানে প্রায় ৩০টির মতো পরিবার রয়েছে। তাদের বিষয়টিও ভাবতে হবে। তারা যাতে জমির ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি প্রধান (চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ) রেজওয়ানুল হক স্থান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরসহ দেশের মোট ৫ জেলায় নির্মাণ করা অঙ্গিকার করেছেন। এসব জেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে চাঁদপুর ছাড়াও অন্য জেলার মধ্যে হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী ও রাঙ্গামাটি রয়েছে।