‘আমি ছিলাম বিশ্বকাপের হানি শট’

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | সোমবার, জুলাই ১৬, ২০১৮
‘আমি ছিলাম বিশ্বকাপের হানি শট’
আকর্ষণীয় ও সুন্দরী সমর্থকদের অনেক সময়েই ‘জুম’ বা খুব বড় করে তোলা ছবিকে ভিডিওগ্রাফির পরিভাষায় বলে ‘হানি শট’।

রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপে খেলা চলাকালে গ্যালারি থেকে বেছে বেছে সুন্দরী নারীদের ছবি প্রচারে আপত্তি তুলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

সম্প্রচারের দায়িত্বে থাকা ক্যামেরাগুলো বৈচিত্র্য তুলে ধরতে আকর্ষণীয় ও সুন্দরী সমর্থকদের অনেক সময়েই ‘জুম’ বা খুব বড় করে তুলে ধরে। আর সেখানেই সমস্যা দেখছেন ফিফার ডাইভারসিটি প্রধান।

এমন ‘হানি শট’ অনেকের জীবনে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বিশ্বের ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী নারীদের নিয়ে বিবিসির ১০০ নারী সিরিজে স্থান পাওয়া নাটালিয়া বেটটানকুর জানিয়েছেন তেমনটিই।

২০১৪ সালের ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার খেলায় গ্যালারিতে নিজ দেশের সমর্থন জানাচ্ছিলেন নাটালিয়া। সে সময় তার ছবির প্রচার হলে নাটালিয়া পরবর্তী সময়ে মডেল এবং টিভি ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হন।

নাটালিয়া বলেন, ‘আমি ছিলাম বিশ্বকাপের হানি শট। আমার কোনো ধারণাই ছিল না, কখন ক্যামেরা আমাকে জুম করে তুলে ধরেছে। আর সেই সঙ্গে অবশ্যই জানতাম না যে, পরবর্তী সময়ে কী হবে এর ফল।’

পপ স্টার রিয়ানার দৃষ্টি কাড়ে নাটালিয়ার ছবি আর তিনি সেটি তার টুইটারে প্রকাশ করেন ‘কলম্বিয়ান সুন্দরী’ শিরোনামে। আর এতেই জীবন বদলে যায় তার।

নাটালিয়া বিশ্বকাপ শেষে ব্রাজিল থেকে ফিরে আসার সময় জানতেনও না যে কী বিস্ময় অপেক্ষা করছে তার জন্য।

নাটালিয়া বলেন, ‘এই ছবি আমার জন্যে মিডিয়ার দরজা খুলে দেয়। এর আগে আমি আমার বন্ধুর সঙ্গে একটি নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ কোম্পানি খুলেছিলাম।’

২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে নাটালিয়ার এই ছবিটি তার জীবনকে পাল্টে দেয়। ছবি: সংগৃহীত

এক মাসের মধ্যে নাটালিয়া চলে আসেন পুরুষদের একটি ম্যাগাজিনের প্রথম পাতায়। এখনো বন্ধুর সঙ্গে তার সেই নির্মাণ সামগ্রীর কোম্পানিটি থাকলেও নাটালিয়া দেশটির অনেকগুলো পণ্যের মডেল। সম্প্রতি তিনি কাজ করছেন চুলের সৌন্দর্য রক্ষার একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।

নাটালিয়া বলেন, ‘কলম্বিয়ার একটি টিভির রিয়ালিটি শোতে অংশ নিয়ে আমার সুযোগ হয় সব তারকাদের সঙ্গে অংশ নেওয়ার, নাচানাচি করার।’

অবশ্য বিশ্বকাপের শেষ সপ্তাহে এসে ফিফার ডাইভারসিটি প্রধান ফেডেরিকো আদিয়েচি সম্প্রচার কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন ভিড়ের মাঝ থেকে খুঁজে খুঁজে আকর্ষণীয় নারীদের ছবি প্রচার না করতে।

এই রাশিয়া বিশ্বকাপে আলোকচিত্র এজেন্সি গেটি ইমেজ প্রকাশ করেছিল ‘দা হটেস্ট ফ্যান অ্যাট দ্য ওয়ার্ল্ড কাপ’ শিরোনামের একটি অ্যালবাম, যার মূল লক্ষ্য ছিল সুন্দরী তরুণীরা। পরে ‘বিবেচনায় দুঃখজনকভাবে ত্রুটি’ বলে এটি তারা সরিয়ে ফেলে।

রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরুতে বর্ণবৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও পরবর্তী সময়ে ‘সেক্সিজম’ একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী সংগঠন ‘ফেয়ার নেটওয়ার্ক’ ও স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় হয়রানির বিভিন্ন অভিযোগ খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করছে ফিফা।

এরই মধ্যে ‘দ্য ফ্যান গার্লস’ নামে অনলাইন ভিত্তিক একটি গ্রুপ প্রকাশ করেছে খেলা দেখতে যাওয়া এমন কিছু নারী সমর্থকদের ছবি, যাকে তারা বলছে ‘ডিফারেন্ট কাইন্ড অব উইমেন’।

কানাডায় একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে এমনই ‘হানি শট’ থেকে পরবর্তী সময়ে বিশ্বখ্যাত হয়েছেন এমন একজন তারকা হলেন পামেলা এন্ডারসন।

তাই এসব ‘হানি শট’ এর বিরোধিতা থাকলেও পক্ষের যুক্তিও তুলে ধরেছেন নাটালিয়া বেটটানকুর।

নাটালিয়া বলেন, ‘আমি মনে করি না, এটি খুব আপত্তিকর। ফুটবল যে নারী পুরুষ উভয়ের জন্যেই খেলা হয়, এতে বরং সেটিই প্রমাণ হয়।’

ব্রাজিল বিশ্বকাপ ছিল নাটালিয়ার প্রথম অভিজ্ঞতা। এবারও রাশিয়ায় খেলা দেখতে এসেছেন তিনি এবং ইংল্যান্ড কলম্বিয়া ম্যাচে আবারও ধরা পড়েছেন টেলিভিশন ক্যামেরায়।

নাটালিয়ার মতে, ‘এবারো আমাকে জুম করে দেখানো হয়েছে, আর আমারতো মনে হয় আগের চাইতে আরও হাসিখুশিই দেখাচ্ছিল।’