পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে পেট কেটে হত্যা

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | শুক্রবার, জুলাই ২০, ২০১৮
পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে পেট কেটে হত্যা

বগুড়ার নন্দীগ্রামে নারী শ্রমিক কিরণী বালার হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়ার সন্দেহে তৃতীয় স্ত্রী কিরণী বালা (৪৩) কে ঘুমন্ত অবস্থায় ব্লেড দিয়ে পেট কেটে হত্যা করে পাষণ্ড স্বামী সুরেশ প্রামাণিক। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পৌর এলাকার কালিকাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, তিনটি বিয়ে করেছিলেন সুরেশ। তিনি ছিলেন টাকার পাগল ও অত্যাচারী। ইতিমধ্যে এক স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়েছেন। আরেক স্ত্রী থাকেন বাবার বাড়ি। আর কিরণী বালা ছিলেন সুরেশের তৃতীয় স্ত্রী। তিনি ইট ভাঙ্গার কাজ করতেন। তিনি স্বামী সুরেশের সঙ্গেই থাককেন। ইট ভাঙা এবং রাজমিস্ত্রির কাজ করে যা আয় হতো তা তুলে দিতেন স্বামীর হাতে। বৃহস্পতিবার রাতের খাবার খেয়ে স্বামী-স্ত্রী নিজেদের ঘরে শুয়ে পড়েন। এরপর সুযোগ বুঝে সুরেশ তার স্ত্রী কিরণী বালার পেটে ধারালো ব্লেড চালান। তখন তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। 

খবর পেয়ে রাতেই থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করে এবং হত্যাকা-ে সম্পৃক্ত সন্দেহে নিহতের স্বামী সুরেশ প্রামণিককে আটক করে। 

জিজ্ঞাসাবাদের পর স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সুরেশ। স্ত্রীর সাথে অন্য কারো পরকীয়া আছে, এই সন্দেহেই স্ত্রীকে তাকে হত্যা করা হয়। 

ঘটনার পর থেকেই সুরেশ দাবি করছিলেন, গভীর রাতে কে বা কা রা শোয়র ঘরে ঢুকে তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে গেছে। কিন্তু পুলিশের হাতে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে সে। 

শুক্রবার বিকেলে নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, স্ত্রী হত্যাকারী সুরেশকে আটক করা হয়েছে। তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এবং হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ব্লেড উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।