পূর্বধলায় খুচরা কয়েন নিয়ে ভোগান্তি

মোঃ এমদাদুল ইসলাম, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: | সোমবার, জুলাই ২৩, ২০১৮
পূর্বধলায় খুচরা কয়েন নিয়ে ভোগান্তি


নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ১, ২ ও ৫ টাকার ধাতব মুদ্রার কয়েন নিয়ে চরম ভোগান্তি ও বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও কয়েন টাকা নিতে আপত্তি জানাচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। উপজেলার বিভিন্ন বাজারের মুদি, চায়ের দোকান, ফেরিওয়ালা, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কয়েন নিয়ে ভোগান্তি শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা যেমন ১ টাকার কয়েন অচল করে দিয়েছেন, তেমনি ভিক্ষুকসহ সকল মহলও অচল করে দিয়েছেন। ২ ও ৫ টাকার কয়েন নিতে চাইলেও বেশি নিতে রাজি হয় না কেউই। পূর্বধলা স্টেশন বাজারের পানের দোকানদার আবু তাহের (জামাই) জানান, কোম্পানির লোকজন খুচরা কয়েন নেয়না। পাইকারি ব্যবসায়ীরাও কয়েন নিতে চায় না। সাধারণ ক্রেতারা কয়েন হারিয়ে যাওয়ার অজুহাতে নিতে চাইনা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাখাল চন্দ্র দাস জানান বেশি খুচরা হয়ে গেলে এই কয়েন জমা থেকে যায় দীর্ঘদিন। এ কারণেই ১ টাকার কয়েন নেইনা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ২ ও ৫ টাকার কয়েন নিলেও ২০ টাকার বেশি নেইনা।

পূর্বধলা বাজারের আদি হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান আকন্দ জানান, আমি যখন ভোক্তাকে কয়েন টাকা দিতে চাই তখন তারা পকেট থেকে কয়েন হারানোর ভয়ে নিতে চাইনা। সেই সাথে আমার পাইকারি ব্যবসায়ীও কয়েন নিতে নেইনা।

কাজী হাছিদুল ইসলাম কাজল ও মশিউর রহমান জানান, ১ টাকার কয়েন ভিক্ষুকসহ কেউই নেয়না। প্রয়োজনীয় খুচরা কিছু কিনতে চাইলে বেশি কয়েন দিতে চাইলে অপারগতা প্রকাশ করে। এ কারণে খুচরা কয়েন নিতে ও দিতে চাইনা।

এ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। কয়েন বিড়ম্বনা নিয়ে নজর দেয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা সঠিক প্রদক্ষেপ গ্রহন করছেনা বলে জানান সাধারণ শ্রেণি পেশার অনেক মানুষ।
নেত্রকোনা সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের জোনাল অফিসের প্রিন্সিপাল অফিসার, মোঃ হাসিম উদ্দিন জানান, সরকারিভাবে কয়েন না নেয়ার কোনো বিধান নেই। ব্যাংকে কয়েন লেনদেন করার মতো প্রয়োজনীয় জনবল নেই। যে কারণে কয়েন লেনদেনের কিছুটা সমস্যা থাকতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নমিতা দে’র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।