সিরাজদিখানে মাদক ব্যবসায়ীদের নির্যাতন ও হামলার স্বীকার আনসার কমান্ডার

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ | মঙ্গলবার, জুলাই ২৪, ২০১৮
সিরাজদিখানে মাদক ব্যবসায়ীদের নির্যাতন ও হামলার স্বীকার আনসার কমান্ডার

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসমহল বালুচর গ্রামের সু-পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ রাসেল, জাবেদ হোসেন, সোহরাব হোসেন,শহিদ, মোঃ রুবেলদের নির্যাতন ও হামলার স্বীকার সিরাজদিখান উপজেলা আনসার কমান্ডার মোঃ নাছির উদ্দিন।  গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার খাসমহল বালুচর গ্রামের আলী মার্কেটে সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এবিষয়ে উপজেলা আনসার কমান্ডার মোঃ নাছির উদ্দিন ৫ জনকে বিবাদী করে সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। আনসার কমান্ডার মোঃ নাছির উদ্দিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৯ জুলাই অভিযোগে বর্ণিত ৪নং বিবাদী মোঃ শহিদকে সিরাজদিখান থানা পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ওই এলাকার জাহাঙ্গীর বাউল, চর নিমতলা গ্রামের জিন্নত আলী, বালুচর ইউনিয়ন পঞ্চায়াত কমিটির আহবায়ক মোঃ জাকির হোসেন সিরাজদিখান থানার ওসি মোঃ আবুল কালামকে উৎকোচ দিয়ে মোঃ শহিদকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

নির্যাতন ও হামলার স্বীকার সিরাজদিখান উপজেলা আনসার কমান্ডার মোঃ নাছির উদ্দিন জানান, ১৯৮৪ সালে আমি আনসার বাহীনিতে যোগদান করি।  যোগদানের পর আমাদেরকে সপথ বাক্য পড়ানোর সময় বলা হয়েছিল যে, আইন প্রাশাসন আমাদের কাছে কোন তথ্য চাইলে আমরা দিতে বাধ্য থাকিব। আমি বর্তমানে সিরাজদিখান  উপজেলায় চাকুরীরত অবস্থায় আছি বিধায় সিরাজদিখান থানা পুলিশ ও মুন্সীগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ আমার কাছে অনেক তথ্য জানতে চাই এবং আমি দিয়েও থাকি। গত ১৬ জুলাই রাত ১০ টায় মুন্সীগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম আমাদের বালুচর গ্রামে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে একজনকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের তথ্যটি আমি জানতাম না। গ্রেফতারকৃত আসামীর স্বজনরা আমাকে কিছু না বললেও মাদক ব্যবসায়ীরা আমাকে সন্দেহ করে বাড়ী থেকে ডেকে এনে আলী মাকেট জাহাঙ্গীরের দোকানের সামনে বেদরক মারধর করে। তার পরদিন সিরাজদিখান সার্কেল আসাদুজ্জামান স্যারকে ফোনে বিষয়টা জানাই। তিনি আমাকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করতে বলে। আমি সিরাজদিখান থানায় ৫জনকে বিবাদী করে একটি লিখিত অভিযোগ করি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৪নং বিবাদী মোঃ শহিদকে সিরাজদিখান থানার  এ এস আই নাজমুল স্যার ও এ এস আই হুমায়ুন স্যার গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে জানতে পারলাম সিরাজদিখান থানার ওসি সাহেব তাকে নাকি ছেড়ে দিয়েছে। মোঃ শহিদ থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তার সহযোগী মাদক ব্যবসায়ীসহ তার বংশের লোকজন আমাকে মারার জন্য আমার বাড়ীর আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছে। তাদের ভয়ে আমি বাড়ী থেকে বের হতে পারছিনা। আমি ও আমার পরিবারের লোকজন বর্তমানে নিরাপত্তা হীনাতায় ভুগছি। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্শন করছি এই মাদক ব্যবসায়ীদের হাত থেকে আমাকে রক্ষা করার জন্য।

এব্যপারে সিরাজদিখান থানার ওসি আবুল কালাম জানান, আনসার কমান্ডার মোঃ নাছির উদ্দিন একটি অভিযোগ করেছে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।