পূর্বধলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার সেই লক্ষ টাকার ঘর প্রাপ্তির অপেক্ষায়

মোঃ এমদাদুল ইসলাম, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: | রবিবার, জুলাই ২৯, ২০১৮
পূর্বধলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার সেই লক্ষ টাকার ঘর প্রাপ্তির অপেক্ষায়

“জমি আছে ঘর নাই, তার নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের আশ্রয়ন প্রকল্প-২ থেকে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নেত্রকোনার পূর্বধলায় ১১টি ইউনিয়নের তৃণমূল স্তরের অসচ্ছ্বল ও হতদরিদ্র পরিবারের জন্য গৃহনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২২০টি পরিবার এক লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি করে আধুনিক ঘর ও একটি ল্যাট্রিন পেতে যাচ্ছে। সেই লক্ষে ইতোমধ্যে গৃহ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঈদ উপহার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘর হস্তান্তর করা হবে। যেসব পরিবারের নিজস্ব জায়গা আছে অথচ বসবাস উপযোগী গৃহনির্মাণের আর্থিক সঙ্গতি নেই পূর্বধলার এমন ২২০টি পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের পূর্বধলা সদর, আগিয়া, হোগলা, ঘাগড়া, জারিয়া, ধলামূলগাঁও, খলিশাউড়, বিশকাকুনী, গোহালাকান্দা, নারান্দিয়া ও বৈরাটি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে ২০টি করে পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প বিবেচনায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন শুরু থেকেই কাজের সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নমিতা দে’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে গৃহনির্মাণ কাজ পরিচালিত হচ্ছে। উল্লেখ থাকে যে, ইতোপূর্বে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্দেশনায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে প্রত্যেকটি ইউনিয়ন থেকে সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। যা এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে। গৃহনির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নমিতা দে জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বরাদ্দকৃত অর্থে প্রকল্প বাস্তবায়নে যেভাবে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে তা সঠিকভাবে অনুসরণ করেই যাবতীয় কার্য সম্পাদিত হচ্ছে।

এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির কোন অবকাশ নেই। কাজের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে নমিতা দে বলেন স্থানীয় সাংসদ ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল (বীর প্রতীক) নিয়মিত কাজের খোঁজ-খবর রাখছেন এবং আগষ্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সকল সুবিধাভোগীর হাতে ঈদ উপহার হিসেবে তাঁরা তুলে দিতে সক্ষম হবেন সেই কাংখিত ঘর।  উপজেলা মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান হোসনে আরা বেগম লুৎফা ঘর বিতরণের সকল কাজ স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে মর্মে মতপ্রকাশ করেন। আশার করছি ঈদের আগেই ঘর হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। উপজেলা প্রকৌশলী দ্বীন মোহাম্মদ প্রতিনিধিকে বলেন সকল ক্ষেত্রে প্রকল্পের নির্দেশনার আলোকে সঠিক মানের ও পরিমিত মাত্রায় উপকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও গৃহনির্মাণ কাজের সদস্য সচিব মীর মোর্শেদ রানা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের কাজটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সুবিধাভোগী নির্বাচন থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে নীতিমালা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।
কাজের সার্বিক বিষয়ে হোগলা ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম খোকন বলেন, ঘরের পিলার ইতোমধ্যে বিতরণ শুরু হয়েছে যা পেয়ে সুবিধাভোগীদের মধ্যে সন্তোষ পরিলক্ষিত হয়। আরবানের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আরিফুজ্জামান বলেন, কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থাকলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নমিতা দে’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে গৃহনির্মাণ কাজ সঠিকভাবে চলছে।

পূর্বধলা ইউনিয়নের ছোচাউড়া গ্রামের তিন সন্তানের মা বিধবা কমলা বেগম, আগিয়া ইউনিয়নের শারীরিক প্রতিবন্ধী সবুজ মিয়া ও একই ইউনিয়নের নি¤œ আয়ের তোতা মিয়ার বলেন, উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ টাকার বরাদ্দকৃত ঘর পেয়ে তারা সত্যিই আপ্লুত। জীবন সায়াহ্নে এসে এমন সুন্দর ঘরে বসবাস করতে পারবে শুধু প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণে।