জোটের বৈঠকে জামায়াত নেতাকে ফখরুলের তুলোধুনো

বোরহান উদ্দিন, | বুধবার, আগস্ট ৮, ২০১৮
জোটের বৈঠকে জামায়াত নেতাকে ফখরুলের তুলোধুনো
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থিতা নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের পর জামায়াতের বিবৃতি দেয়ার ক্ষোভ এক মাস পর ঝারলেন বিএনপি মহাসচিব। জোটের বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিকে ফখরুল জানিয়ে দিলেন, তিনি যেন দলের শীর্ষ পর্যায়ে তার ক্ষোভের কথা জানিয়ে দেন।

মঙ্গলবার রাতে গুলশানে জামায়াতসহ জোটের নেতাদেরকে নিয়ে বৈঠকে করেন ফখরুলসহ বিএনপি নেতারা। বৈঠক শেষে সবাই যখন উঠার অপেক্ষায় তখন ‘আমার একটি কথা আছে’ জানিয়ে জামায়াত নেতা আবদুল হালিমের সঙ্গে কথা বলেন ফখরুল। এ সময় তিনি তার ক্ষোভ ঝারেন।

গত ৩০ জুলাই হয়ে যাওয়া তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরার উপক্রম হয়। সিলেটে বিজয়ের অপেক্ষায় থাকা বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বিপরীতে জামায়াত প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে। দলটি দাবি করেছিল, তাদের প্রার্থী জেতার মতো অবস্থানে আছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি জামানত হারিয়েছেন।

সিলেটে জামায়াতের প্রার্থীকে বসিয়ে দিতে বিএনপি চেষ্টা করেছে আপ্রাণ। এর অংশ হিসেবে গত ৪ জুলাই হয় জোটের বৈঠক। আর এই বৈঠকের পর মির্জা ফখরুল বলেন, তিন সিটিতে জোটের একক প্রার্থীই থাকবে। আর ফখরুলের বক্তব্যের ইঙ্গিতটা ছিল এ রকম যে, জামায়াত তার প্রার্থী তুলে দেবে।

কিন্তু সেই রাতে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, সিলেটে জামায়াতের প্রার্থী থাকবে। বিবৃতির ভাষাটাও ছিল ফখরুলের জন্য অস্বস্তিকর।

জামায়াত নেতা আবদুল হালিমের পক্ষ থেকে ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব নজরুল ইসলাম খান এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে কোন কোন মিডিয়া যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অবকাশ থাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম আজ ৪ জুলাই নিন্মোক্ত বিবৃতি প্রদান করেন…’

‘বিএনপির গুলশান অফিসে ২০-দলীয় জোটের বৈঠকে আমি উপস্থিত ছিলাম। কতিপয় মিডিয়ায় প্রচারিত বিভ্রান্তিকর রিপোর্টে আমি বিস্ময় প্রকাশ করছি।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের রয়েছেন। এতে বিভ্রান্তির কোন অবকাশ নেই।’

আর এক মাস তিন দিন পর জোটের বৈঠকে জামায়াতের বিবৃতি দেয়া নেতা হালিমই প্রতিনিধিত্ব করেন দলটির।

বৈঠক শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে বিএনপি মহাসচিব রুমের বাইরে যান। পরে তিনি যখন ফিরে আসেন তখন নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘তাহলে আজকে মিটিং শেষ এখানেই।’

তখন মির্জা ফখরুল বলেন, ‘না আমার একটা কথা আছে জামায়াতের আব্দুল হালিম সাহেবের কাছে।’

পরে সেই বিবৃতির প্রসঙ্গ তোলেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, ‘আমি সবসময় আপ্রাণ চেষ্টা করছি জোটের ঐক্য ধরে রাখতে। আর আপনারা আমার নাম জড়িয়ে যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুদ্ধ। আমি কষ্ট পেয়েছি। আপনাদের কাছ থেকে এমনটা আশা করিনি।’

এ সময় জামায়াত নেতা হালিম বলেন, ‘বিষয়টি এমনটা হয়নি।’ তখন মহাসচিব বলেন, ‘ঠিক আছে তাহলে আপনি আপনার ডকুমেন্ট নিয়ে আসবেন, আমিও যেসব পত্রিকায় খবর এসেছে সেটা নিয়ে আসব।’

এর আগে জোটের বৈঠকেও জামায়াতের প্রতিনিধিকে কটাক্ষের মধ্যে পড়তে হয়। জামায়াত দাবি করেছিল, সিলেটে নিদেনপক্ষে তাদের ৪০ হাজার ভোট আছে। অথচ জামায়াত নেতা জুবায়ের পেয়েছেন ১০ হাজার ৯৫৪টি।

জোটের একজন নেতা জামায়াত নেতা হালিমকে বলেন, ‘কই গেলো ৪০ হাজার ভোট?’

নতুন সড়ক আইনের সমালোচনা

বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের নতুন নতুন সড়ক পরিবহন আইনের চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে কথা বলেন। তার দাবি এতে অনেকগুলো অসঙ্গতি আছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান না রাখার সমালোচনা করেন ফখরুল। বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি ছিল সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু সর্বোচ্চ শাস্তির যে দাবি সেটা এই খসড়া আইনে নেই।’

‘এতদিন বলা হলো- আমরা আইন করছি। এখন দেখা গেলো যে, কোটা সংস্কারের দাবি মানার মতোই অবস্থা দাঁড়িয়ে গেল, এটা একটা প্রতারণা।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় আইনের খসড়া অনুমোদন হয়েছে। এটা এখনো পাস হয়নি। আমরা আশা করব- আইনটি পাস হওয়ার আগে বিষয়টি আবার তারা বিবেচনায় নিয়ে দেখবেন, বিষয়গুলো সুরাহা করার চেষ্টা করবেন।’

বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে জোটের সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিশু-কিশোরদের ওপরে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের হামলা, সাংবাদিকদের ওপর নির্মম নির্যাতন, প্রবীণ আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেফতারের নিন্দা জানাচ্ছে ২০-দলীয় জোট।’

বিএনপি মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয় জোটের বৈঠকে।