জমে উঠেছে কুমার নদী পাড়ের নৌকার হাট

ফরিদপুর প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৯, ২০১৮

জমে উঠেছে কুমার নদী পাড়ের নৌকার হাট
ফরিদপুরের মেঠো পথ, খাল-বিল এখন বর্ষার পানিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ।আর এ অঞ্চলেরর নিম্নাঞ্চলের মানুষের বর্ষা কালের চলাচলের প্রধান বাহন ডিঙি নৌকা।

এসময় ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদা থাকায় নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। জেলায় নৌকার হাট ভাঙ্গা উপজেলার কুমার নদের পাড়ে সপ্তাহে দুই দিন বসে।

সেখানে ডিঙি নৌকা বিক্রি হয় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতারা নৌকা কিনতে  ভিড় করেন এই হাটে।

কারিগররা জানান, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কুমার নদের পাড়ে জমে উঠেছে ডিঙি নৌকা বিক্রির হাট। সপ্তাহে দুই দিন শুক্রবার ও সোমবার নৌকা বিক্রির হাট বসে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতারা এ হাটে এসে পছন্দের নৌকা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে। আর নৌকা বিক্রি করে খুশি নৌকা তৈরির কারিগররাও।

বর্ষা মৌসুমে পানি বন্দি গ্রামাঞ্চলের মানুষের গৃহস্থলীর বিভিন্ন কাজে নৌকার চাহিদা বেড়ে যায়। হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, মাছধরা, গরুর খাবার সংগ্রহ করা, ধান-পাট কাটা ও আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য বর্ষা মৌসুমে নৌকার চাহিদা বেড়ে যায়। আর এ কারনেই নৌকা তৈরি ও বিক্রির ধুম পড়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নৌকা বিক্রির হাটে।

প্রকার ভেদে নৌকা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে সাত-আট হাজার টাকা পর্যন্ত।

ভাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ী আসাদ মুন্সী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় নৌকার হাট বসে ভাঙ্গায়। বিভিন্ন জেলা থেকে নৌকা কিনতে এই হাটে ভিড় করেন।

টেকেরহাট থেকে নৌকা কিনতে এসেছেন জুয়ের মল্লিক। তিনি বলেন, এখন বর্ষাকাল। চারিদিকে বর্ষার পানিতে থৈ থৈ করছে। আর এখন নৌকা ছাড়া কোনো কাজই হয় না। আর সেজন্যই নৌকা কিনতে এসেছি। দেখছি ঘুরছি পছন্দ হলেই কিনব।

আর নৌকা তৈরির কারিগররা জানালেন, বর্ষা মৌসুমে কাজ না থাকায়, নৌকা তৈরি করে বিক্রয় করে ভালই আয় করছেন তারা।

নৌকা তৈরির কারিগর সুবল কুমার, পরিতোষ রায়সহ অনেকেই জানালেন, বর্ষা মৌসুমে রেন্টি, কড়াই, উড়িআম, চাম্বুল কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করতে খরচ হয় ২ হাজার টাকা থেকে ২হাজার ৫শ টাকা। আর বিক্রি হয় ২ হাজার ৮শ থেকে ৩ হাজার ৫শ টাকায়। পানি বাড়লে বেড়ে যায় নৌকার চাহিদা। এসময় আমাদের আয়ও ভাল হয়।