নারী ডাক্তারের চিকিৎসায় জীবন বাঁচার হার বেশি!

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | শুক্রবার, আগস্ট ১০, ২০১৮
নারী ডাক্তারের চিকিৎসায় জীবন বাঁচার হার বেশি!
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ বুঝতে পারলে নারীদের উচিৎ নারী ডাক্তারের কাছেই চিকিৎসা করানো। এতে তাদের জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা বেশি, জানিয়েছেন হার্ভার্ডের গবেষকরা।

গবেষকরা ফ্লোরিডার বিভিন্ন হাসপাতালের জরুরী বিভাগের প্রায় বিশ বছরের তথ্য সংগ্রহ করেন। ১৯৯১ সাল থেকে ২০১০ সালের মাঝে জরুরী বিভাগে যত হার্ট অ্যাটাকের রোগী আসেন, তাদের ব্যাপারে নেওয়া হয় তথ্য। দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ নিয়ে আসা নারী রোগীদের চিকিৎসা যদি পুরুষ ডাক্তার করেন, তাহলে তাদের মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে রোগী নারী হোক বা পুরুষ, নারী চিকিৎসকের কাছে গেলে তাদের বাঁচার সম্ভাবনা বাড়ে।

প্রসিডিংস অব দ্যা ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেজ জার্নালে প্রকাশিত এ গবেষণায় বলা হয়, এক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের ধারণা নারীর তুলনায় পুরুষরা হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হন এবং এ কারণে নারীদের চিকিৎসায় অবহেলা করেন পুরুষ চিকিৎসকরা।

গবেষণায় এটাও দেখা যায়, জরুরী বিভাগে নারী ডাক্তার বেশি থাকলে পুরুষ ডাক্তার তুলনামূলক ভালো চিকিৎসা করেন।  নারীরা সাধারণত নিজেদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে থাকেন। তারা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলেও হাসপাতালে যেতে দেরি করেন। নারী ও পুরুষের মাঝে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণেও পার্থক্য থাকতে পারে। নারীদের হার্ট অ্যাটাকের আগে সাধারণত নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বমি ভাব ও বমি, পিঠ এবং চোয়ালে ব্যথা দেখা যায়।  গড়পড়তা পুরুষের ৬৫ বছর বয়সে এবং নারীদের ৭২ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাক হতে দেখা যায়।

গবেষকরা বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে একটা জীবন-মরণ সমস্যা।’ এ কারণে নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা গেলে তাদেরকে নারী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  চিকিৎসা খাতেও নারী চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতে জোর দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: আইএফএলসায়েন্স